চিনি উৎপাদনকারী দেশগুলোয় আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। এর জের ধরে এবারের মৌসুমে চিনির বৈশ্বিক উৎপাদন আগের তুলনায় বেড়ে মোট চাহিদাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।
চলতি মৌসুমের পাশাপাশি আগামী মৌসুমেও পণ্যটির বৈশ্বিক উৎপাদনে উদ্বৃত্ত অবস্থা বজায় থাকতে পারে বলে সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দিয়েছে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক পণ্যবাজার-বিষয়ক পরামর্শক ও তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্রিন পুল। উৎপাদন উদ্বৃত্তের জের ধরে আগামী দিনগুলোয় আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির মজুদ বেড়ে দাম বর্তমানের তুলনায় কমে আসতে পারে বলেও মনে করছে প্রতিষ্ঠানটি।
গ্রিন পুলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ মৌসুমে চিনির বৈশ্বিক উৎপাদন উদ্বৃত্ত দাঁড়াতে পারে ১ কোটি ১৫ লাখ ১০ হাজার টনে, যা প্রতিষ্ঠানটির আগের প্রাক্কলনের তুলনায় প্রায় ১৯ লাখ টন বেশি। একই সঙ্গে আগামী ২০১৮-১৯ মৌসুমে খাদ্যপণ্যটির বৈশ্বিক উৎপাদন উদ্বৃত্তের পরিমাণ আরো ৫৪ লাখ ৩০ হাজার টন বাড়তে পারে। সবমিলে চলতি ও আগামী মৌসুমে পণ্যটির বৈশ্বিক উৎপাদন উদ্বৃত্ত আগের যেকোনো রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে গ্রিন পুলের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ মৌসুম শেষে চিনির বৈশ্বিক মজুদ দাঁড়াতে পারে ৯ কোটি ৪৫ লাখ টনে। বিগত এক দশকের মধ্যে এটাই কোনো মৌসুমে পণ্যটির সমাপনী মজুদের সর্বোচ্চ পরিমাণ।
প্রতিষ্ঠানটির এক নোটে বলা হয়েছে, চিনির বৈশ্বিক বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় রয়েছে। বাম্পার উৎপাদনের জের ধরে আগামী দিনগুলোয় পণ্যটির বাজার পরিস্থিতি আরো নিম্নমুখী হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। উৎপাদন ও মজুদ বৃদ্ধির হার অপরিবর্তিত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দাম বর্তমানের তুলনায় কমতে পারে।
এদিকে মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছর বিশ্বে চিনি উৎপাদনকারী শীর্ষ দেশ ব্রাজিলে সবমিলে ৪ কোটি ২০ লাখ টন চিনি উৎপাদন হতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৬৮ শতাংশ বেশি।
