রাষ্ট্রীয় সংস্কারে ভূমিকা রাখায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘জাতীয় সংস্কারক’ ঘোষণার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্টের রুল জারির পর সরকার জানিয়েছে, ড. ইউনূস নিজেই এমন কোনো উপাধি গ্রহণে ইচ্ছুক নন এবং সরকারেরও তাকে এই উপাধি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।
সোমবার (১৪ জুলাই) হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ‘জাতীয় সংস্কারক’ ঘোষণার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। এই রুলের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে একটি বিবৃতি জারি করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, হাইকোর্টের আদেশের অনুলিপি পাওয়ার পর সরকার যথাসময়ে এই রুলের জবাব দেবে।
বিবৃতিতে সরকার স্পষ্ট করে জানায়, “অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজে ‘জাতীয় সংস্কারক’ হিসেবে ঘোষিত হতে ইচ্ছুক নন। সরকারেরও তাকে এ ধরনের কোনো উপাধি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই।” বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “আবেদনকারী নিজ উদ্যোগে এই রিট দায়ের করেছেন, তবে কী ভিত্তিতে এই নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়।”
সরকার জানিয়েছে, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। রুলের জবাবে সরকারের অবস্থান এবং ড. ইউনূসের মতামত বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
ঢাকার একজন আইনজীবী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “ড. ইউনূসের অবদান অনস্বীকার্য, তবে তিনি নিজে এ ধরনের উপাধি চান না, এটি তার স্বভাবের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।” একজন শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান বলেন, “তিনি দেশের জন্য যা করছেন, তা উপাধির চেয়েও বড়। তার কাজই তাকে সংস্কারক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।”

