বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের গড় দামের সূচক আগের মাসের তুলনায় খুব সামান্য (দশমিক ৩ শতাংশ) কমেছে। গত জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল ও আমিষপণ্যের গড় দাম তুলনামূলক স্থির থাকলেও আগের মাসের তুলনায় সামান্য কমেছে দুগ্ধপণ্য ও চিনির দাম।
তবে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে খাদ্যশস্যের বাজারে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সর্বশেষ মাসভিত্তিক ফুড প্রাইস ইনডেক্সে (এফএফপিআই) এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে বৈশ্বিক খাদ্যমূল্য আগের মাসের তুলনায় দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। এ সময় খাদ্যপণ্যের গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৬৯ দশমিক ৫ পয়েন্টে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে খাদ্যপণ্যের বৈশ্বিক মূল্যসূচক ছিল ১৬৯ দশমিক ৮ পয়েন্টে। আর নভেম্বরে এ সূচকমান ১৭৫ দশমিক ৮ পয়েন্টে অবস্থান করেছিল। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় জানুয়ারিতে বৈশ্বিক খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচক ৩ শতাংশ কমেছে।
এ সময় চিনি ও দুগ্ধপণ্যের বাজারে সবচেয়ে বেশি মন্দাভাব দেখা গেছে। গত মাসে চিনির গড় সূচকমান দাঁড়িয়েছে ২০১ পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় ৩ দশমিক ২ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ কম। আর আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় জানুয়ারিতে পণ্যটির বৈশ্বিক মূল্যসূচক ৩০ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে জানুয়ারিতে দুগ্ধপণ্যের গড় দাম ডিসেম্বরের তুলনায় ২ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। এ সময় পণ্যটির গড় সূচকমান আগের মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ৫ পয়েন্ট কমে ১৭৯ দশমিক ৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। জানুয়ারিতে মাখন, পনির ও গুঁড়ো দুধের দাম কমেছে। মূলত বিশ্বব্যাপী বাড়তি উৎপাদনের জের ধরে চলতি বছরের শুরুতে চিনি ও দুগ্ধপণ্যের বাজারে মন্দাভাব বজায় ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে এ সময় আন্তর্জাতিক বাজারে ২০১৬ সালের এপ্রিলের তুলনায় দুগ্ধপণ্যের গড় দাম ৪১ শতাংশ বেশি ছিল।
গত জানুয়ারিতে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেল ও আমিষপণ্যের দাম তুলনামূলক স্থির ছিল। এ সময় ভোজ্যতেলের গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৬৩ দশমিক ১ পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশ বেশি। শীত মৌসুমে চাহিদা কমে যাওয়ায় পাম অয়েলের বেচাকেনায় মন্দাভাব বজায় রয়েছে। ভোজ্যতেলের গড় দাম তুলনামূলক স্থির থাকার পেছনে এটি ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। অন্যদিকে গত জানুয়ারিতে আমিষপণ্যের বৈশ্বিক গড় মূল্যসূচক দাঁড়িয়েছে ১৭০ দশমিক ৬ পয়েন্টে, যা আগের মাসের তুলনায় ১ পয়েন্ট কম। তবে ২০১৭ সালের জানুয়ারির তুলনায় এ সময় পণ্যটির গড় মূল্যসূচক ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি রয়েছে। উত্তর আমেরিকা ও ওশেনিয়ার বাজার থেকে আমিষপণ্যের রফতানি কমে যাওয়ার জের ধরে জানুয়ারিতে পণ্যটির বাজারে আগের মাসের তুলনায় কিছুটা মন্দাভাব দেখা গেছে।
