টিটো ভিলানোভাকে ভোলেনি বার্সেলোনা!


paperslife

বার্সা তখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছে পুরো ইউরোপ। একে একে জয় করে এসেছে রোম, লন্ডন, মাদ্রিদসহ প্রতিটি শহর। ইউরোপ তখন গড়াগড়ি খাচ্ছে তার পায়ে এবং সব সফলতার প্রশংসা পাচ্ছেন একজন মানুষ, পেপ গার্দিওয়ালা।

যখন সবাই পেপ বন্দনায় মুখর তখন খুব অল্প কিছু মানুষই পর্দার আড়ালে নিভৃতে কাজ করা মানুষটিকে স্মরণ করেছেন। তিনি অন্য কিউলদের মতই দলের সাফল্যের স্বাদ নিয়েছেন কিন্তু কখনোই কৃতিত্বের দাবি করেননি।

নিজের কাজটা করে গেছেন নিরবে। তিনি আর কেউ নন, টিটো ভিলানোভা। সারা বিশ্ব দাপিয়ে বেড়ানো দলটি গড়ে তোলার পেছনে যার অবদান অসামান্য। এটি ছিল একটি স্বপ্নের বাস্তবায়ন।

হ্যাঁ, স্বপ্নই তো! বার্সা যা করে দেখিয়েছে এর আগে কেউ তা স্বপ্নেও ভাবেনি।

এর পিছনে যে অল্প কিছু মানুষের অবদান, টিটো তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একজন। তার মৃত্যু ছিল নিঃসন্দেহে ব্লুগ্রানা পরিবারের জন্য একটি বড় আঘাত। যে মানুষটি কোটি ফ্যানের মুখে হাসি ফুটিয়ে ছিলেন সে তিনিই সকলকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন বড় অবেলায়।

টিটো ছিলেন একজন জন্মগত কাতালান। একদম শুরুর দিকেই বার্সার ইয়্যুথ টিমের অংশ ছিলেন।

পেপের ডেপুটি হিসেবে দায়িত্ব নেন বার্সা বি টিমের। দায়িত্ব নেয়ার প্রথম সিজনেই বি টিমকে সেগুন্দায় প্রমোশন করান।কিন্তু এর চেয়েও বড় চমক যে দেয়ার বাকি ছিল দুজনের তা কেউ ঘুনাক্ষরেও ভাবেনি।

এদিকে রাইকার্ডের অধীনে মেইন টিম রীতিমতো ধুঁকছে। এ অবস্থায় অনেকটা অপ্রত্যাশিত ভাবেই বার্সা কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় পেপ গার্দিওয়ালাকে এবং সহকারী হিসেবে টিটো।

সবার মনেই সংশয় ছিল প্রায় অনভিজ্ঞ এ দুজন কি পারবেন বার্সার হাল ধরতে? সংশয়বাদীদের ভুল প্রমাণ করতে খুব বেশি সময় নেননি এই জুটি। একের পর এক গড়তে থাকেন ইতিহাস এবং সে সাথে গড়ে তুলেন খুব সম্ভবত বার্সার ইতিহাসের সেরা টিম। যাদের একের পর এক রূপকথা গল্পের মত এগিয়ে যেতে থাকে বাস্তবের পথে।

কিন্তু অন্যসব স্বপ্নের মত এই স্বপ্নেরও ইতি ঘটল।গার্দিওয়ালা ঘোষনা দিলেন তিনি আর কোচ হিসেবে থাকছেন না। স্বাভাবিক ভাবেই টিটোর কাঁধেই এসে পড়ে দায়িত্ব। কিন্তু সমস্যা দাঁড়াল অন্য জায়গায়। পেপের ট্যাকটিক্স তখন প্রেডিক্টেবল হয়ে উঠেছে।

বার্সাকে আটকানোর কৌশল জেনে গেছে প্রায় সবাই। তাই টিটোর সাফল্য পাওয়া নিয়ে কিছুটা সংশয় থেকেই যায়।কিন্তু আবারো নিজেকে প্রমাণ করলেন তিনি। প্রথম সিজনেই লা লীগা রেকর্ড (রিয়ালের সাথে যৌথভাবে) ১০০ পয়েন্ট নিয়ে রিয়াল থেকে ১৫ পয়েন্ট এগিয়ে থেকে লীগা জেতান দলকে। পুরো সিজন হেরেছেন মাত্র ৮টি ম্যাচ।

হঠাৎই যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত! ক্যান্সার ধরা পড়ল টিটোর শরীরে। নতুন সিজনের শুরুতেই দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান চিকিৎসার প্রয়োজনে। সকলেই ভেবেছিল তিনি আবার ফিরবেন।আবিদাল ফিরতে পারলে টিটো নয় কেন?

কিন্তু নিয়তি যে তখন মেতে উঠছে অন্য খেলায়। আবিদাল হয়ে ফিরতে পারলেন না। খেলার মাঠে বার্সেলোনার হয়ে শতভাগ সাফল্য নিয়ে হেরে গেলেন জীবন যুদ্ধে।

২৫শে এপ্রিল ২০১৪, টিটো চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

“তোমার কোন কিছুতেই নার্ভাস হওয়া উচিৎ নয়।আজ যেটা গুরুত্বপূর্ণ মনে হচ্ছে কাল হয়তো তা আর থাকবেনা।”
এই মূলমন্ত্রে বিশ্বাসী মানুষটা আমাদের স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন, স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে দিয়েও গেছেন।

আজ এমন বার্সার অন্যতম কারিগর তিনি। তার হাতেও লেখা হয়েছিল বার্সার অপ্রতিরোধ্য হওয়ার মূল মন্ত্র। তিনি নেই, তার দলটি আছে। আজও দাপিয়ে বেড়ায় নতুন উদ্দমে, বিজয়ের নেশার

শুধু তিনিই নেই…

তিনি আছেন! তিনি আছেন বার্সেলোনার প্রতিটি জয়ে। তিনি আছেন মেসি-সুয়ারেজ-পিকেদের গোল উৎসবে।

ভালই থাকবেন স্যার! ওপারে নাহয় আরেকটি দল বানিয়ে নিলেন। স্বর্গের সে অপ্রতিরোধ্য দলকে হারানোর সাধ্য থাকবে না কারো!