মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আবারও যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দিলেন ইরানের নীতি নির্ধারকরা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া হুমকির জবাবে পাল্টা হুঙ্কার ছুড়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলি লারিজানি।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘ফাঁপা বাগাড়ম্বর’ আখ্যা দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরানকে দমানোর যেকোনো চেষ্টা হিতে বিপরীত হতে পারে।
মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে লারিজানি সরাসরি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে অত্যন্ত কঠোর বার্তা প্রদান করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইরান কোনো সাধারণ রাষ্ট্র নয় যে কেউ হুমকি দিলেই তারা পিছু হটবে। লারিজানির ভাষায়, “ইরানি জাতি আশুরার চেতনায় উদ্বুদ্ধ। যারা অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার দীক্ষা পেয়েছে, তারা ট্রাম্পের মতো ব্যক্তিদের গর্জনে মোটেও ভীত নয়।”
তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, ইতিহাসের পাতায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেয়েও অনেক প্রভাবশালী এবং শক্তিশালী শাসকরা ইরানকে বিশ্ব মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের পতন হয়েছে, ইরান স্বমহিমায় টিকে আছে। অন্যকে হুমকি দেওয়ার আগে নিজেদের সামলানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে, এই সংঘাতের জেরে খোদ হুমকিদাতারাই নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে পারেন।
হরমুজ প্রণালী: স্বস্তি নাকি মরণফাঁদ?
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে লারিজানির বক্তব্য ছিল অত্যন্ত কৌশলগত। তিনি এই নৌপথের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, ইরান চায় এই অঞ্চলটি সবার জন্য নিরাপদ ও স্বস্তির একটি মাধ্যম হিসেবে থাকুক। তবে পশ্চিমা শক্তির আস্ফালন যদি সীমা লঙ্ঘন করে, তবে ইরান চুপ করে বসে থাকবে না।
লারিজানি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “হরমুজ প্রণালী হয় সবার জন্য শান্তির পথ হবে, না হয় যারা যুদ্ধের স্বপ্ন দেখছে তাদের জন্য এটি একটি ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হবে।” তার এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করেছে, কারণ বিশ্বের মোট খনিজ তেলের একটি বড় অংশ এই সরু প্রণালী দিয়েই পরিবাহিত হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন যদি সত্যিই হরমুজ প্রণালীতে কোনো ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপ বা অবরোধের চেষ্টা করে, তবে ইরান পাল্টাহামলা চালাতে দ্বিধা করবে না।
এর ফলে কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের অর্থনীতিতে ধস নামতে পারে। তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

