ডলারের বিপরীতে নিম্নমুখী স্বর্ণের বাজার



নিম্নমুখী হয়ে পড়েছে স্বর্ণের বাজার। গত বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দাম কমেছে। ডলারের বিনিময় মূল্য বৃদ্ধিতে ও ধস কাটিয়ে ওঠা শেয়ারবাজারে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতাও পণ্যটির বাজারকে নিম্নমুখী করে তুলেছে।
এপ্রিলে সরবরাহের চুক্তিতে স্বর্ণের দাম কমেছে ১ দশমিক ১ শতাংশ। দিন শেষে পণ্যটির দাম আউন্সপ্রতি ১৪ দশমিক ৯০ ডলার কমে ১ হাজার ৩১৪ দশমিক ৬০ ডলারে স্থির হয়। ফ্যাক্টসেটের তথ্য অনুসারে গত ৯ জানুয়ারির পর থেকে এটাই সর্বনিম্ন সমাপনী দাম। একই সঙ্গে শতাংশের হিসাবে গত ২০ নভেম্বরের পর থেকে সর্বোচ্চ দরপতন। এদিন দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে আইসিইতে ডলার সূচকের অবস্থান দাঁড়িয়েছে ৯০ দশমিক ৩১৫ পয়েন্ট।
আইএনটিএল এফসিস্টোনের পণ্য বাজার পরামর্শক এডওয়ার্ড মেয়ার বলেন, এ অবস্থান থেকে স্বর্ণ কোন দিকে যাবে তা বলা মুশকিল। মঙ্গলবারের পুনরুদ্ধারের পরও যুক্তরাষ্ট্রের স্টক মার্কেটের ধারা এখনো অস্পষ্ট।
তিনি বলেন, আমরা এতটুকু বলতে পারি, শেয়ারবাজারে যখন পতন ঘটছিল, তখন স্বর্ণের বাজারের অবস্থান ভালো ছিল না। তবে মঙ্গলবার শেয়ারবাজার চাঙা হওয়ার পর অনায়াসে স্বর্ণের বাজার খণ্ডিত হতে শুরু করেছে। শেয়ারবাজার স্থিতিশীল হলে স্বর্ণের বাজারে পতনের ঝুঁকি আরো বাড়বে বলা যায়।
সাধারণত ডলার ও স্বর্ণ বিপরীতমুখী আচরণ করে। ডলারের বিনিময়মূল্য কমলে ভিন্ন মুদ্রা ব্যবহারকারীদের জন্য স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়ে ওঠে। এতে চাহিদা বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে পণ্যটির দাম বাড়ে। আবার ডলারের বিনিময়মূল্য বাড়লে স্বর্ণের মতো লভ্যাংশহীন পণ্যে বিনিয়োগ কমে আসে। এতে এসব পণ্যের দাম কমে যায়।
মার্চে সরবরাহের চুক্তিতে রুপার দাম কমেছে ২ দশমিক ১ শতাংশ। এদিন পণ্যটির আউন্সপ্রতি ৩৪ দশমিক ২ সেন্ট কমে ১৬ দশমিক ২৩৮ ডলারে লেনদেন হয়। মার্চে সরবরাহের চুক্তিতে তামার দাম কমেছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ। এদিন পণ্যটি পাউন্ডপ্রতি ৩ দশমিক শূন্য ৮৮ ডলারে লেনদেন হয়। এপ্রিলে সরবরাহের চুক্তিতে প্লাটিনামের দাম কমেছে ১ দশমিক ৩ শতাংশ। এদিন পণ্যটি আউন্সপ্রতি ৯৮১ দশমিক ৭০ ডলারে লেনদেন হয়। মার্চে সরবরাহের চুক্তিতে প্যালাডিয়ামের দাম কমেছে ১ দশমিক ৮ শতাংশ।