গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মাদারীপুরের বিভিন্ন গ্রামে ফেসবুকের মাধ্যমে ডাকাতির গুজবে মসজিদে মসজিদে মাইকিং করায় ‘লকডাউন’ ভেঙে প্রায় কয়েক হাজার মানুষ রাস্তায় বেড়িয়ে পড়ে। এসময় তাদের মধ্যে আতঙ্কের ছাপ দেখা যায়।
তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা হিসেবে পুলিশ উক্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় টহল শুরু করে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত হয় মাদারীপুরের কুনিয়া ও রাজৈরের টেকেরহাট থেকে। মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের এক তরুণ মঙ্গলবার সন্ধ্যার পরে পাশের কুনিয়া এলাকা ঘুরতে গেলে তাকে স্থানীয়রা চ্যালেঞ্জ করে আটকে রাখে।
এরপর ডাকাত ধরা পড়েছে বলে ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়। এছাড়া রাজৈরের টেকেরহাট স্বরমঙ্গল এলাকা থেকে চার তরুণকে ডাকাত সন্দেহে স্থানীয়রা আটক করে। ডাকাত ধরা পড়েছে বলে তাদের ছবিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে পাঁচ জনকে উদ্ধার করে পুলিশ। তাদের থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তবে তাদের থেকে ডাকাতি সংক্রান্ত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
এরপর রাত ৮টার পর থেকেই মাদারীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংয়ে ডাকাতির খবর ছড়িয়ে পড়ে। সদরের বাহাদুরপুর, শিরখাড়া দুধখালী, রাজৈরের ইশিবপুর, কবিরাজপুর, টেকেরহাট, এমনকি শিবচরের বহেরাতলাসহ জেলার বিভিন্ন স্থানেও মাইকিং হয়েছে।
মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) বদরুল আলম মোল্লা বলেন, ‘রাতে মসজিদ মসজিদে মাইকিং করে ডাকাতি হচ্ছে এই ঘোষণা পেয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে মঙ্গলবার রাতে মাদারীপুর জেলার কোথাও কোনও ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। আটককৃত পাঁচ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ও তাদের বিস্তারিত খোঁজ-খবর নিয়ে এখনও ডাকাতির সংশ্লিষ্ট কোনও বিষয় জানা যায়নি।
তবে পুলিশ প্রশাসন এ ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে এবং সাধারণ জনগণকে সচেতন থাকতে বলা হয়েছে। রাতে করোনা পরীক্ষার কথা বলে পুলিশ বা স্বাস্থ্যকর্মী পরিচয়ে কেউ বাড়িতে গেলে দরজা না খুলে জেলা পুলিশকে বা ৯৯৯ এর কল দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।’
উল্লেখ্য, করোনা সংক্রমণের কারণে গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) থেকে পুরো মাদারীপুর জেলায় লকডাউন ঘোষণা করে স্থানীয় প্রশাসন।

