উৎপাদন কমার কারণে তুলার সরবরাহ সংকট তৈরির আশঙ্কা বাড়ছে। এতে আগামী মৌসুমের শুরুতে পণ্যটির বৈশ্বিক মজুদ কমে সাত বছরের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কটন অ্যাডভাইজরি কমিটি (আইসিএসি)।
আগস্টে শুরু হতে যাওয়া ২০১৮-১৯ মৌসুমের জন্য প্রথম পূর্বাভাসে আন্তঃসরকার জোটটি চলতি মৌসুম শেষে তুলার সমাপনী মজুদ ১ কোটি ৮১ লাখ ৫০ হাজার টন হতে পারে বলে প্রাক্কলন করেছে। এ হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে তুলার মজুদ কমবে ১১ লাখ টন। আইসিএসির তথ্য অনুসারে, চলতি মৌসুমের সম্ভাব্য সমাপনী মজুদ ২০১১-১২ মৌসুমের পর থেকে সর্বনিম্ন।
পূর্বাভাসে আগামী মৌসুমে তুলা উৎপাদন ৪ লাখ ২০ হাজার টন কমে ২ কোটি ৫৩ লাখ ৭০ হাজার টন হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। নিম্ন উৎপাদন ও আবাদকৃত জমির পরিমাণ কমে আসায় এ পতন দেখা দিতে পারে। তবে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ভোক্তাপর্যায়ে কাপড়ের চাহিদা বাড়ায় তুলার ব্যবহার বাড়বে বলে মনে করছে আইসিএসি। আগামী মৌসুমে পণ্যটির ব্যবহার ১২ লাখ ২০ হাজার টন বেড়ে ২ কোটি ৬৪ লাখ ৭০ হাজার টন হতে পারে বলে জানানো হয় পূর্বাভাসে।
আইসিএসি পলিয়েস্টারের মতো কৃত্রিম সুতার উৎপাদন ব্যয় ও পরিবেশগত ক্ষতি বাড়বে বলে উল্লেখ করেছে। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের জন্য এসব পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বাড়তে পারে।
আইসিএসির পূর্বাভাসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) প্রাক্কলনের মিল রয়েছে। গত সপ্তাহে ইউএসডিএ জানায়, তুলার মজুদ ৫৯ লাখ বেল বা ১২ লাখ ৮০ হাজার টন কমে ৮ কোটি ২৭ লাখ বেলে বা ১ কোটি ৮০ লাখ টনে নেমে আসতে পারে, যা সাত বছরের সর্বনিম্ন মজুদ। তবে উৎপাদন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংস্থাটির প্রাক্কলন আইসিএসির চেয়ে তুলনামূলক বেশি।
