দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর


দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় প্রধানমন্ত্রীর

বহু বছর পর প্রিয় জন্মভূমির মাটিতে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন করতে পেরে মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে তিনি দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার বলিষ্ঠ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


যমুনায় ঈদের আমেজ ও প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

শনিবার বেলা সাড়ে ১২টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং কূটনৈতিক কোরের সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হন প্রধানমন্ত্রী। দীর্ঘ প্রবাস জীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশের মাটিতে ফিরতি এই ঈদ প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছিল বিশেষভাবে আবেগঘন।

উপস্থিত সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “বহু বছর পর নিজের দেশের মানুষের সঙ্গে, এই মাটির ঘ্রাণ নিয়ে ঈদ উদযাপন করতে পারাটা আমার জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। এই সুযোগ দেওয়ার জন্য আমি সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞ।” তার কণ্ঠে ফুটে ওঠে দেশপ্রেম এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াইয়ের পর অর্জিত এই নতুন অধ্যায়ের তৃপ্তি।

প্রত্যাশিত বাংলাদেশ ও অন্তর্ভুক্তিপন্থী উন্নয়নের দর্শন

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে কেবল ব্যক্তিগত আবেগে সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং ভবিষ্যতের এক নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, দেশের মানুষ দীর্ঘকাল ধরে যে ভোটাধিকার এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য অপেক্ষা করেছে, সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ বিনির্মাণই তার সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জনগণ যে বাংলাদেশ দেখতে চায়—যেখানে থাকবে না কোনো জুলুম বা বৈষম্য—সেই লক্ষ্য পূরণে আমাদের সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। তবে এই বিশাল কাজ একা কোনো সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়; এর জন্য দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সক্রিয় সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ প্রয়োজন।” তার এই আহ্বানকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা ‘অন্তর্ভুক্তিপন্থী উন্নয়নের ডাক’ হিসেবে অভিহিত করছেন।

শান্তি ও সম্প্রীতির ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ

দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের মানুষ ভবিষ্যতে আরও বেশি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে ঈদসহ অন্যান্য উৎসব পালন করতে পারবে। অতীতের অস্থিরতা পেছনে ফেলে একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, একটি জাতির প্রকৃত শক্তি লুকিয়ে থাকে তার ঐক্যের মাঝে। দল-মতের ভিন্নতা থাকলেও দেশ গড়ার প্রশ্নে সবাইকে এক কাতারে আসার এই আহ্বান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই ঈদ শুভেচ্ছা বার্তা কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নয়, বরং এটি একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। বছরের পর বছর দেশের বাইরে কাটিয়ে নিজ মাটিতে ফিরে আসা এবং ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর এই প্রথম ঈদ উদযাপন তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে এক নতুন মাত্র যোগ করেছে। যমুনার এই সৌজন্য সাক্ষাৎ থেকে পাওয়া বার্তাটি হলো—সরকার এখন সংঘাত নয়, বরং সমঝোতা ও উন্নয়নের পথে হাঁটতে চায়।