খাতুনগঞ্জে কয়েক মাসের ঊর্ধ্বমুখিতার পর দাম কমতে শুরু করেছে মসলার। ১০ দিনের ব্যবধানে লবঙ্গ, গোলমরিচ, জিরা, হলুদ, দারচিনি, জয়ত্রীসহ বেশির ভাগ মসলার দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ৪০ টাকা কমেছে। তবে ভিন্নচিত্র দেখা গেছে এলাচ, ধনিয়া ও মরিচের বাজারে।
মূলত শীত মৌসুমে উৎসবকেন্দ্রিক বাড়তি চাহিদা কমে আসায় মসলার বাজারে তেজিভাব কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। আগামী দিনগুলোয় বেশির ভাগ মসলার দাম আরো কমতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
গতকাল খাতুনগঞ্জ বাজারের পাইকারি আড়তগুলো ঘুরে প্রতি কেজি লবঙ্গ মানভেদে ৯০০-৯২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। ১০ দিন আগেও পণ্যটি বিক্রি হয়েছিল মানভেদে ৯৩০-৯৫০ টাকায়। সে হিসাবে পণ্যটির দাম কমেছে কেজিতে সর্বোচ্চ ৩০ টাকা। একই চিত্র দেখা গেছে গোলমরিচের দামে। এদিন প্রতি কেজি কালো গোলমরিচ বিক্রি হয় ৪৯০-৪৯৫ টাকায়। আর সাদা গোলমরিচ বিক্রি হয় কেজিপ্রতি ৭৬০-৭৬৫ টাকায়। ১০ দিনের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কমেছে কেজিতে ৩০ টাকা। এদিন সিরিয়া থেকে আমদানি করা প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হয় ৩৭০ টাকায়। ১০ দিন আগে পণ্যটি কেজিপ্রতি ৩৭৬ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সে হিসাবে পণ্যটির দাম কেজিতে ৬ টাকা কমেছে। অন্যদিকে ভারত থেকে আমদানি করা জিরা সর্বোচ্চ ৫ টাকা কমে কেজিপ্রতি ৩৫৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।
স্থানীয় বাজারে সবচেয়ে বেশি কমেছে জয়ত্রীর দাম। গতকাল প্রতি কেজি জয়ত্রী বিক্রি হয় ১ হাজার ৩৮০ টাকায়। ১০ দিন আগেও পণ্যটি কেজিপ্রতি ১ হাজার ৪২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সে হিসাবে ১০ দিনের ব্যবধানে জয়ত্রীর দাম কেজিতে ৪০ টাকা কমেছে। এদিন প্রতি কেজি দারচিনি বিক্রি হয় ২১৭ টাকায়। ১০ দিনের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কেজিতে ৬ টাকা কমেছে। জায়ফলের দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ২০ টাকা কমেছে। এদিন প্রতি কেজি জায়ফল বিক্রি হয় মানভেদে ৪৭০-৪৮০ টাকায়। হলুদের বাজারে নিম্নমুখী প্রবণতা বজায় ছিল। ভারত থেকে আমদানি করা গোটা হলুদ বিক্রি হয় কেজিপ্রতি ১১৭ টাকায়, যা ১০ দিন আগের তুলনায় ৩ টাকা কম। অন্যদিকে দেশে উৎপাদিত হলুদ ১৫ টাকা কমে কেজিপ্রতি ১১৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।
তবে শীতকালীন রোপণ মৌসুমে ধনিয়ার চাহিদা বেশি থাকায় কয়েক দিন ধরে পণ্যটির দাম ৩০ টাকা বেড়ে কেজিপ্রতি ৬৬-৭০ টাকায় ওঠানামা করছে। এদিকে এলএমজি ব্র্যান্ডের এলাচ ২০-৩০ টাকা বেড়ে কেজিপ্রতি ১ হাজার ৩৫০ থেকে ১ হাজার ৩৬০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। জেবিসি ব্র্যান্ডের এলাচের দামও একই পরিমাণ বেড়েছে। গতকাল পণ্যটি বিক্রি হয় কেজিপ্রতি ১ হাজার ৩৭০ টাকায়। নতুন মৌসুমে উৎপাদিত শুকনো মরিচের সরবরাহ বিলম্বিত হওয়ায় পণ্যটির দাম বেড়েছে। এদিন দেশে উৎপাদিত প্রতি কেজি শুকনো মরিচ বিক্রি হয় মানভেদে ১১৮-১২০ টাকায়। ১০ দিনের ব্যবধানে পণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিতে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা। অন্যদিকে ভারত থেকে আমদানি করা প্রতি কেজি শুকনো মরিচ বিক্রি হয় ১২৬ টাকায়। ১০ দিন আগেও পণ্যটি কেজিপ্রতি ১১৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সে হিসাবে ১০ দিনের ব্যবধানে পণ্যটির দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ১১ টাকা বেড়েছে।
