আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বিশ্বের ১৮০টি দেশের তথ্য বিশ্লেষণ করে দুর্নীতির কারণে কর কমে যাচ্ছে বলে তথ্য দিয়েছে।
সংস্থাটির প্রতিবেদনের মধ্যে বাংলাদেশও আছে। একই ধরনের অর্থনীতির দুটি দেশ। একটি দেশ অন্যটির তুলনায় দুর্নীতি কমাতে পারলে মোট জিডিপির হিসাবে ৪ শতাংশ পর্যন্ত রাজস্ব আদায় বাড়াতে পারবে।
তার প্রধান কারণ হচ্ছে, যত বেশি দুর্নীতি, তত কম কর আদায় হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সম্প্রতি এ নিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক এই সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, পৃথিবীতে দুর্নীতিমুক্ত দেশ বলতে কিছু নেই। কোথাও বেশি, কোথাও কম হারে চলছে দুর্নীতি।
তবে যে দেশ যত বেশি দুর্নীতি কমাতে পারবে, দেশটির জনগণ তত বেশি উপকৃত হবে বলে জানিয়েছে।
এছাড়াও, অন্য এক প্রতিবেদনে আইএমএফ বলেছে, উচ্চ দুর্নীতি কর আদায় কমিয়ে দেয়। কারণ, মানুষ তখন কর ফাঁকি দেয়ার জন্য ঘুষ প্রদান করে।
মানুষ যখন জানে সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত, তখন তারা কর দিতেও আগ্রহী হয় না। আবার সরকারি কর্মকর্তারাও মনে করে, সবাই যেহেতু ঘুষ খায়, সে–ও নিতে পারে। এসব দেশে সরকারও অনেক সময় প্রভাবশালীদের জন্য নানা কর ছাড় দেয়।
যে দেশে দুর্নীতি কম, সে দেশে সরকারি বিনিয়োগ প্রকল্পের অর্থের অপচয়ও কম। দুর্নীতিগ্রস্ত উঠতি অর্থনীতির একটি দেশ অন্য দেশের তুলনায় অর্থের অপচয়ও দ্বিগুণ বেশি করে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুর্নীতি একটি দেশের সরকারের অগ্রাধিকারও নষ্ট করে দেয়। এর ফলে বিভিন্ন খাতে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তার কার্যকারিতাও কম হয়।
আবার বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ করে এমন রাষ্ট্রমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও দুর্নীতির প্রভাব অত্যন্ত খারাপ। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, উচ্চ দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর এ ধরনের প্রতিষ্ঠান অনেক কম দক্ষ।
প্রাকৃতিক সম্পদ আছে এমন দেশগুলোর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানেরও দক্ষতা কম হয়। এসব দেশের দুর্নীতিও প্রকট।
তবে আইএমএফ মনে করে, দুর্নীতি কমাতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা সবচেয়ে জরুরি। কেননা, দুর্নীতি রোধ করতে হলে একটি শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান তৈরি করতে হবে। এভাবে কিছু দেশ দুর্নীতি কমাতে পেরেছে।
প্রতিবেদনে দুর্নীতি কমাতে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছে এমন কিছু দেশের উদাহরণ দেওয়া আছে। তবে বাংলাদেশের নাম নেই।
পরিসংখ্যান অংশে অবশ্য বাংলাদেশ প্রসঙ্গ রয়েছে। এর মধ্যে স্বল্প আয়ের দেশগুলোর কর-জিডিপি হারের একটি তালিকা দেওয়া আছে। আর সেই তালিকা হচ্ছে যত বেশি দুর্নীতি, তত কম কর আদায়ের একটি বড় কারণ।

