রাজধানী ঢাকার বায়ুদূষণের মাত্রা কিছুটা কমেছে। তবে বাতাসের মান এখনো অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে রয়েছে। বিশ্বের ১২৬টি শহরের মধ্যে বায়ুদূষণের দিক থেকে শুক্রবার ঢাকার অবস্থান ১৬তম। শহরটির বায়ুমান সূচক (একিউআই) ১৫১।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) প্রকাশিত সূচকে এ তথ্য উঠে এসেছে।
তালিকায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। শহরটির একিউআই স্কোর ৩৯৮, যা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ পর্যায়ের বায়ুদূষণ নির্দেশ করে। ২২৮ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের দিল্লি। ভারতের মুম্বাই ১৭৮ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এ ছাড়া সেনেগালের ডাকার ১৭৫ স্কোর নিয়ে চতুর্থ এবং মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর ১৭২ স্কোর নিয়ে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে।
আইকিউএয়ারের শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ভালো বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত মাঝারি বা সহনীয় এবং ১০১ থেকে ১৫০ পর্যন্ত সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে ধরা হয়। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে বায়ুর মান অস্বাস্থ্যকর, ২০১ থেকে ৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০০-এর বেশি হলে দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাংলাদেশে বায়ুর মান নির্ধারণে কয়েক ধরনের দূষকের উপস্থিতি বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে বস্তুকণা পিএম২.৫ ও পিএম১০, নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড, কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড এবং ওজোন।
ঢাকার বায়ুদূষণের পেছনে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক উৎসকে দায়ী করা হচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিশ্বব্যাংকের ২০১৯ সালের মার্চে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইটভাটার ধোঁয়া, যানবাহনের নির্গত ধোঁয়া এবং নির্মাণকাজের ধুলাকে রাজধানীর বায়ুদূষণের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
বায়ুদূষণের প্রভাব পরিবেশের পাশাপাশি মানুষের স্বাস্থ্যের ওপরও পড়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে স্ট্রোক, হৃদ্রোগ, দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসতন্ত্রের রোগ, ফুসফুসের ক্যানসার ও তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত কারণে প্রতিবছর আনুমানিক ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ঢাকার বায়ুমানের স্কোর কিছুটা কমলেও বর্তমান সূচক বলছে, রাজধানীর বাতাস এখনো স্বাস্থ্যঝুঁকিমুক্ত নয়। দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণ ও বায়ুর মান উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া তাই গুরুত্বপূর্ণ।

