'ধর্মের নাম নিয়ে মানুষ হত্যা নয়'


রোহিঙ্গাদের ফিরতেই হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ধর্মের নাম নিয়ে মানুষ হত্যা নয়; ধর্মের নামে যারা মানুষ হত্যা করছে, তারা ধর্মকেই হেয় করছে। যারা বিপথে গেছেন ফিরে আসুন, বিরত হন ধ্বংসের এই পথ থেকে।’
আজ বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা-রাজশাহী-ঢাকা রুটে বিরতিহীন ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ ট্রেনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
এসময় ইমামদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম যে শান্তির ধর্ম সে বিষয়ে কথা বলবেন। এখানে সন্ত্রাসবাদের কোন স্থান নেই।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে শিক্ষক, ছাত্র, যুব-তরুণ ও মসজিদের ইমামসহ সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছেন এবং জঙ্গিরা যে ইসলাম ও মানুষের শত্রু, সে বিষয়ে অন্যকে সচেতন করতে বলেছেন। এ সময় শ্রীলঙ্কা ও নিউজিল্যান্ডে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় আগামী শুক্রবার মসজিদে দোয়া করার জন্য ইমামদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সন্ত্রাসীরা মানবজাতির শত্রু উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসীদের কোনও ধর্ম নেই, দেশ নেই। যারা ইসলাম ধর্মের নাম করে এগুলো করছে, তারা ইসলাম ধর্মেরই ক্ষতি করছে। এদের বিরুদ্ধে কথা বলতে হবে। মানুষ কোনও অপরাধ করলে, তার বিচার করবে আল্লাহ নিজে। তাহলে ধর্ম রক্ষার নাম করে তারা কীভাবে মানুষ খুন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসের কারণে আমরা আট বছরের শিশু জায়ান চৌধুরীকে হারিয়েছি। আমার পরিবারের সবাইকে ১৫ আগস্টে হারিয়েছি। আমি চাই না, আর কোনও সন্তানের এভাবে মৃত্যু হোক। যারা এগুলো করে তারা ঘৃণা ছাড়া কিছুই পায় না।
সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শান্তি চাই। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় আসার পর দেশে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের উত্থান ঘটে। শায়খ আবদুর রহমান ও বাংলা ভাইদের মতো সন্ত্রাসীদের জন্ম হয়। হরতালের নামে তারা মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। গাড়ি, বাস, ট্রাক ও লঞ্চ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে। বাবা দেখেছে চোখের সামনে ছেলে পুড়ে যাচ্ছে, মা দেখেছে সন্তান পুড়ে যাচ্ছে, ভাই দেখেছে বোন পুড়ে যাচ্ছে। আমরা এগুলো চাই না।
বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে হত্যার পর, তারা ইতিহাস বিকৃত করে। দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের যে স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছিলেন তা রুদ্ধ করে দেওয়া হয়। ২১ বছর পর আমরা ক্ষমতায় আসি। আমাদের লক্ষ্য ছিল জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা। কিন্তু ক্ষমতায় এসে দেখলাম, সবকিছুর অচল অবস্থা। ক্ষমতাসীনদের ছাড়া সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি।