আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো ধরনের আপস নয়, বরং শতভাগ নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে বিজিবি সদস্যদের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন বাহিনীটির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। রোববার চট্টগ্রামের রাউজান ও ফটিকছড়িতে স্থাপিত নির্বাচনি বেইজ ক্যাম্প পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে বিজিবির প্রধান লক্ষ্য।
মাঠ পর্যায়ে কড়া নজরদারি
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রামে বিজিবির নির্বাচনি প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ শেষে বিজিবি সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গতকাল রোববার তিনি চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সালামত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনের ফটিকছড়ি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে স্থাপিত বেইজ ক্যাম্পগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে বিজিবি মহাপরিচালক সরাসরি কর্তব্যরত সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “বিজিবি একটি সুশৃঙ্খল এবং পেশাদার বাহিনী। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুরাগ বা বিরাগভাজন না হয়ে কেবল দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।” তিনি আরও জানান, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বিজিবি মোবাইল ও স্ট্যাটিক ফোর্স হিসেবে মোতায়েন থাকবে, যাতে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা করা যায়।
সমন্বিত নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি
নির্বাচনি নিরাপত্তাকে নিশ্ছিদ্র করতে কেবল জনবল নয়, ড্রোন এবং কে-৯ ডগ স্কোয়াডের মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও উল্লেখ করেন মহাপরিচালক। রাউজান ও ফটিকছড়ির মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে বিজিবি বিশেষ সতর্কাবস্থায় থাকবে। তিনি স্থানীয় সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও সমন্বয় সভা করেন।
ভোটারদের আস্থা অর্জনে গুরুত্ব
মেজর জেনারেল আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী তার বক্তব্যে বারবার ভোটারদের আস্থার বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “নির্বাচন মানেই উৎসবের আমেজ, আর সেই আমেজ যেন কোনো অশুভ শক্তির কারণে ম্লান না হয়, তা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।” তিনি মাঠ পর্যায়ের কমান্ডারদের নির্দেশ দেন যেন সাধারণ মানুষের সঙ্গে বাহিনীর আচরণ হয় অত্যন্ত বিনয়ী, কিন্তু আইন অমান্যকারীদের ক্ষেত্রে হয় অত্যন্ত কঠোর।
বিশেষ করে সীমান্তবর্তী আসনগুলোতে বহিরাগতদের অনুপ্রবেশ এবং অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি রোধে বিজিবিকে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ফটিকছড়ির মতো দুর্গম এলাকায় বিজিবির কুইক রেসপন্স ফোর্স সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার এই চূড়ান্ত মুহূর্তে বিজিবি মহাপরিচালকের এই মাঠ সফর এবং কড়া নির্দেশনা বাহিনীর সদস্যদের মনোবল বাড়াতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে বিজিবির এই কঠোর অবস্থান সাধারণ ভোটারদের মনে সাহসের সঞ্চার করেছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী কয়েকদিনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে বাহিনীটি তাদের এই ‘নিরপেক্ষতার শপথ’ কতটুকু সফলভাবে মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করতে পারে।
এক নজরে নির্বাচনি দায়িত্বে বিজিবির প্রস্তুতি:
মোতায়েন: সারা দেশের ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে ৪৮৯টিতে ৩৭ হাজারের বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।
একক দায়িত্ব: সীমান্তবর্তী ৬১টি উপজেলায় বিজিবি এককভাবে নির্বাচনি নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাবে।
প্রযুক্তি ব্যবহার: নজরদারির জন্য ড্রোন, কুইক রেসপন্স ফোর্স (QRF) এবং বডি ওন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে।
সমন্বয়: স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে রিয়েল-টাইম তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করা হয়েছে।

