নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও স্ত্রীকে যেভাবে সাথে রাখতেন সাকলাইন


bdnews24 bangla newspaper, bangladesh news 24, bangla newspaper prothom alo, bd news live, indian bangla newspaper, bd news live today, bbc bangla news, bangla breaking news 24

১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের রানার্সআপ হওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা ছিল অফস্পিনার সাকলাইন মুশতাকের। যুগ্মভাবে আসরের তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৭ উইকেট শিকার করেছিলেন তিনি। তবে ফাইনাল ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ধরাশায়ী হওয়ায় সেবার দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতা হয়নি পাকিস্তানের।

দুই দশকের বেশি সময় আগে হওয়া সেই বিশ্বকাপ নিয়েই এক মজার গল্প রয়েছে সাকলাইনের। বিশ্বকাপের শুরুতে পরিবার সদস্য তথা স্ত্রী-সন্তানদেরকে নিজেদের সাথে রাখার অনুমতি দেয়া হলেও, মাঝপথে তাদের দেশে পাঠিয়ে দিতে বলেছিল পাকিস্তান টিম ম্যানেজম্যান্ট। যা পছন্দ হয়নি সাকলাইনের।

তাই তিনি বুদ্ধি করে স্ত্রীকে রাখেন নিজের সঙ্গেই, তবে লোকচক্ষুর আড়ালে। আর এটি করতে গিয়ে বড় একটা সময় নিজের স্ত্রীকে আলমারিতে লুকিয়ে রেখেছিলেন সাকলাইন। যাতে করে দলের নিয়মভঙ্গের অভিযোগ না আসে তার ওপর। বিয়ন্ড দ্য ফিল্ডের ‘লাইভ শো’তে এ কথা বলেছেন সাকলাইন নিজেই।

তিনি বলেন, ‘আমি ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে বিয়ে করি। আমার স্ত্রী লন্ডনে থাকত। তাই ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে আমি তার সঙ্গে থাকা শুরু করি। এটা একটা ধারার মতো হয়ে গেছিল। দিনে দলের সঙ্গে কঠোর অনুশীলন আর সন্ধ্যার স্ত্রীকে নিয়ে নির্ভার সময় কাটানো। এভাবেই সব চলছিল। হঠাৎ একদিন দল থেকে বলা হলো পরিবারের সবাইকে ফেরত পাঠিয়ে দিতে হবে। তখন আমি কোচ রিচার্ড পাইবাসকে বললাম, সবকিছু তো ভালোই চলছে, তাহলে এমন পরিবর্তনের কারণ কী? আমি এমন একজন মানুষ যে কি না বিনা কারণে কোনকিছু পরিবর্তনে বিশ্বাসী নই। তাই ঠিক করলাম দলের এই সিদ্ধান্ত মানব না।’

কিন্তু না মানার কথা বললেই তো হবে না, পরিবার তথা স্ত্রীকে সঙ্গে রাখলে কারও না কারও নজরে পড়ে যাওয়ার ভয়। আর সে ভয় তাড়াতেই, যখন কেউ রুমে আসতো, তখন নিজের স্ত্রীকে আলমারিতে লুকিয়ে রাখতেন সাকলাইন। বিশেষ করে দলের ম্যানেজার, কোচ বা অন্য অফিশিয়ালরা আসলে।

এ বিষয়ে সাকলাইন বলেন, ‘আমাদের রুম চেক করার জন্য প্রায়ই ম্যানেজার, কোচরা আসতেন। মাঝেমাঝে খেলোয়াড়রাও আসতো আড্ডা দিতে। একদিন আমি রুমের দরজায় টোকার আওয়াজ পেয়ে আমার স্ত্রীকে বললাম আলমারিতে গিয়ে লুকিয়ে থাকো। ম্যানেজার ছিলেন তখন, এরপর আরেকজন অফিসিয়ালও এসেছিলেন। পুরোটা সময় আমার স্ত্রী আলমারিতেই ছিল।’

তবে পরে খেলোয়াড়রা আসায় মেলে মুক্তি, ‘ম্যানেজার-অফিসিয়াল চলে যাওয়ার পর আজহার মাহমুদ ও ইউসুফ ইউহানা (এখন মোহাম্মদ ইউসুফ) আসে আমার সঙ্গে কথা বলতে। তারা নতুন নিয়মটি সম্পর্কে কথা বলতেই এসেছিল। ওরা সন্দেহ করেছিল যে আমার স্ত্রী হয়তো রুমেই আছে। ওরা ভরসা দেয়ার পর আমার স্ত্রীকে বলি বাইরে বেরিয়ে আসতে।’

তবে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ফাইনাল ম্যাচে হেরে যাওয়ার পর আর ঝুঁকি নেননি সাকলাইন। তখন দলের সবার অবস্থা নাজুক থাকায়, হোটেলে ফিরেই নিজের স্ত্রীকে পাঠিয়ে দেন লন্ডনে তার নিজস্ব এপার্টমেন্টে।