ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় পরীক্ষাকেন্দ্রে ঝলসে দেয়া মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নুসরাতের হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন। নুসরাতের মর্মান্তিক মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শেখ হাসিনা নুসরাতের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
উল্লেখ্য, শনিবার সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসায় আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে নুসরাতকে বাড়ি থেকে মাদ্রাসায় নিয়ে যান তার বড় ভাই। তাকে কেন্দ্রে ঢুকিয়ে দিয়ে ভাই বাড়ি যান।
পরীক্ষা শুরুর আগে মাদ্রাসায় কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেয়। নুসরাতের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দিলে তিনি মারাত্মকভাবে দগ্ধ হন।
সোমবার অজ্ঞাত পরিচয় চার বোরখা পরিহিত নারীসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন দগ্ধ নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান।
এদিকে নুসরাতের শ্লীলতাহানির মামলায় ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষও গ্রেপ্তার আছেন। অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মাদ্রাসার গভর্নিং বডি।
এ বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, নুসরাতে গায়ে আগুন দেওয়ার দিন দুপুরে সোনাগাজী সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক নুরুল আফসার ও ছাত্র আরিফুল ইসলামকে আটক করেছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া মামলা করার পূর্বে আটকদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে মাদ্রাসার দারোয়ান মোহাম্মদ মোস্তফা, পিয়ন নুরুল আমিনকে আটক করা হয়।

