চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে চিনির দামে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে খাদ্যপণ্যটির দাম (ডিও পর্যায়ে) মণপ্রতি সর্বোচ্চ ৩২ টাকা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দাম তুলনামূলক কম রয়েছে। এর পরও চলমান শীত মৌসুমের শেষভাগে এসে চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কারণে দেশের বাজারে খাদ্যপণ্যটির দাম বাড়তে শুরু করেছে বলে জানান স্থানীয় ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকরা।
আগামী দিনগুলোয় গরমের প্রকোপ বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে দেশের পাইকারি ও খুচরা— দুই বাজারেই চিনির দাম বর্তমানের তুলনায় আরো বাড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।
গতকাল খাতুনগঞ্জ বাজারে চিনির পাইকারি আড়তগুলো ঘুরে আমদানি করা প্রতি মণ চিনি সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮০২ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। দুই সপ্তাহ আগেও পণ্যটি মণপ্রতি ১ হাজার ৭৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সে হিসাবে দুই সপ্তাহের ব্যবধানে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি মণ চিনির দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ৩২ টাকা। এর মধ্যে স্থানীয় বাজারে গতকাল সিটি গ্রুপের প্রতি মণ চিনি বিক্রি হয় মানভেদে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮০২ টাকায়। সরাসরি মিলগেট
থেকে সংগ্রহযোগ্য সিটি গ্রুপের চিনির দাম ছিল মণপ্রতি সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮৩০ টাকা। অন্যদিকে সরাসরি গ্রাহকপর্যায়ে পৌঁছে দেয়ার শর্তে এস আলম গ্রুপের প্রতি মণ চিনি বিক্রি হয় ১ হাজার ৮২০ টাকায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে এখন প্রতি পাউন্ড অপরিশোধিত চিনির দাম ১৩ দশমিক ৫ সেন্ট থেকে সর্বোচ্চ ১৪ সেন্টে ওঠানামা করছে। পণ্যটির বুকিং দর তুলনামূলক কম থাকলেও দেশের বাজারে চিনির দামে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। শীত মৌসুমের শেষভাগে এসে অভ্যন্তরীণ চাহিদা আগের তুলনায় বেড়ে যাওয়ার সুযোগে মিল মালিকরা বাড়তি দামে চিনি বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ তাদের।
ফলে পাইকারি ও খুচরাপর্যায়ে ক্রেতারা বাড়তি দামে চিনি কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এ বিষয়ে খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ী আবু শাহরিয়ার বলেন, স্থানীয় বাজারে পুরো শীত মৌসুমে চিনির দাম স্বাভাবিক ছিল। তবে গরম বাড়তে থাকায় চিনির চাহিদাও বাড়তে শুরু করেছে। বাড়তি চাহিদার চাপ সামাল দিতে মিল মালিকরা সরবরাহ কমিয়ে মজুদ বাড়াতে মনোযোগ দিয়েছেন। এর জের ধরে স্থানীয় বাজারে চিনির দামে তেজিভাব দেখা দিয়েছে। আগামী দিনগুলোয়ও খাদ্যপণ্যটির বাজারে এ প্রবণতা বজায় থাকতে পারে।
এর আগে ২০১৬ সালের রমজানে দেশের বাজারে চিনির দামে বড় ধরনের তেজিভাব দেখা গিয়েছিল। সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে চিনির আমদানি শুল্ক বাড়ানোর ফলে খাদ্যপণ্যটির দাম মণপ্রতি ৬০০ টাকার মতো বেড়েছিল।
তবে সর্বশেষ রোজার মাসে চিনির দাম তুলনামূলক সহনীয় পর্যায়ে ছিল। কিন্তু ঈদের বন্ধের সময় বড় বড় মিল বন্ধ থাকায় পাইকারি বাজারে পণ্যটির সরবরাহ সংকট দেখা দেয়। এর জের ধরে সে সময় চিনির বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে। এরপর শীত মৌসুমের শুরুতে দেশের বাজারে পণ্যটির চাহিদা কমে বেচাকেনায় মন্দাভাব দেখা দেয়। এ কারণে পাইকারি বাজারে পণ্যটির দামও কমে আসে, যা পুরো শীতকালজুড়ে অব্যাহত ছিল।
