বাগেরহাটের ঐতিহাসিক মোংলা বন্দর ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের সময় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার কঠোর ও আঁটসাঁট প্রটোকল একপাশে সরিয়ে রেখে হঠাৎ গাড়ি থেকে নেমে উপস্থিত সাধারণ মানুষের খুব কাছে চলে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাধারণ নাগরিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে তিনি করমর্দন করেন এবং বেশ কিছুক্ষণ আন্তরিকভাবে কুশল বিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীর এই অনানুষ্ঠানিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ ব্যবহারে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন উপস্থিত সর্বস্তরের মানুষ।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত মোংলা বন্দরকে আরও আধুনিক ও বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক সমুদ্রবন্দরে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি নিয়েই প্রধানমন্ত্রী এই বাস্তবভিত্তিক সফরটি নিশ্চিত করেন। বৃহস্পতিবার দুপুর গড়াতেই পুরো বন্দর ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা বন্দর জেটিতে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগতম জানান।
জেটি এলাকায় অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি কনটেইনার হ্যান্ডলিং, ক্রেন অপারেশন এবং জাহাজের খালাস প্রক্রিয়া সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। তিনি বন্দরের কার্যক্ষমতা আরও দ্রুত এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। অবকাঠামোগত কোনো ঘাটতি যেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য প্রবাহকে ব্যাহত না করে, সেদিকে সর্বোচ্চ দৃষ্টি দেওয়ার নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান।
মোংলা বন্দর জেটির প্রাতিষ্ঠানিক পর্যবেক্ষণ সম্পন্ন করে সোয়া ৪টার পর প্রধানমন্ত্রী গাড়ি বহর নিয়ে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের দিকে রওয়ানা হন। সড়কপথে দীর্ঘ লাইনে হাজার হাজার উৎসুক মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং দীর্ঘ গাড়ির বহরের স্বাভাবিক গতি থামিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী আকস্মিকভাবে নিজের গাড়ি থামানোর নির্দেশ দেন।
কঠোর নিরাপত্তার ঘেরাটোপ পেছনে ফেলে গাড়ি থেকে নেমে আসেন রাষ্ট্রপ্রধান। সাধারণ মেহনতি মানুষ, মোংলা বন্দরের শ্রমিক এবং পথচারীদের দিকে হাত নেড়ে এগিয়ে যান তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে এভাবে নিজের মাঝে দেখতে পেয়ে উপস্থিত জনতা করতালি ও স্লোগানে এলাকা মুখরিত করে তোলেন। দীর্ঘদিনের অবহেলিত উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের সুখ-দুঃখের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী তাঁদের আশ্বাস দেন যে, সমগ্র দক্ষিণাঞ্চলকে দেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক হাব হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
বন্দর জেটি সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী মোংলা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনে গিয়ে বিনিয়োগ পরিবেশ ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা পর্যালোচনা করেন। এই অর্থনৈতিক অঞ্চল পূর্ণাঙ্গ রূপ পেলে স্থানীয় কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, উপকূলীয় এই বিশাল এলাকাকে যোগাযোগ ও বাণিজ্যের মূল কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তারেক রহমান মোংলা বন্দর সরাসরি সফর করায় শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হবে। বিশেষ করে সুন্দরবন-সংলগ্ন অঞ্চলের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করে পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নের দিকে জোর দিচ্ছেন নীতিপ্রণেতারা। বন্দরের গভীরতা বৃদ্ধি, নতুন জেটি নির্মাণ এবং রেল যোগাযোগের আধুনিকায়নের কাজ ইতিপূর্বে গতি পেয়েছে, যা এ অঞ্চলকে নতুন রূপ দিচ্ছে।

