প্রধানমন্ত্রীর ভয়েস ক্লোন করে এমপি বহিষ্কারের ভুয়া প্রচারণা


প্রধানমন্ত্রীর ভয়েস ক্লোন করে ছড়ানো ভুয়া ভিডিও শনাক্ত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর ভয়েস ক্লোন করার মাধ্যমে নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজকে বহিষ্কারের ভুয়া প্রচারণা শনাক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্টচেক টিম বাংলাফ্যাক্ট এই তথ্য জানিয়েছে।

বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দাবি করা হয় যে বিএনপির সংসদ সদস্য আবদুল আজিজকে দলীয় সব সাংগঠনিক পদ এবং সংসদ সদস্যের পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই ভিডিওতে বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কণ্ঠস্বরের মতো শোনা যায় এমন একটি বক্তব্য যুক্ত করা হয়েছিল।

ভিডিওটি কারিগরিভাবে পরীক্ষা ও যাচাই করে বাংলাফ্যাক্ট নিশ্চিত করেছে যে এটি সম্পূর্ণ বানোয়াট। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া আনুষ্ঠানিক ভাষণের ভিডিও থেকে একটি খণ্ডিত ক্লিপ নেওয়া হয়েছে। এরপর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সাহায্যে কণ্ঠস্বর নকল করে সেখানে ভুয়া বক্তব্য বসিয়ে ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

মূলত জাতিসংঘের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এমন কোনো বক্তব্য দেননি। এ ছাড়া নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল আজিজকে দল বা সংসদ সদস্য পদ থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে সরকারের কিংবা দলের পক্ষ থেকেও কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি বলে যাচাইয়ে উঠে এসেছে।

একই দিনে পৃথক আরেকটি অনুসন্ধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো আরেকটি বিভ্রান্তিকর ফটোকার্ড শনাক্ত করেছে পিআইবির বাংলাফ্যাক্ট দল। নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্যের ছেলে নূরুজ্জামানকে গ্রেপ্তার ও রিমান্ডে নেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বক্তব্যের ফটোকার্ডের সঙ্গে চার মাস আগের ২২ জুনের নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যের ছেলের ভিন্ন একটি সংবাদের স্ক্রিনশট কোলাজ করে প্রচার করা হচ্ছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ওই ঘটনায় বলেছিলেন, ‘সংসদ সদস্যের সন্তান হলেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং রিমান্ডে নিয়ে আসা হয়েছে। কাউকে ছাড় দেওয়া হয় নাই।’ ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশ ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও অ্যাকাউন্ট থেকে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতারণা এবং গুজব ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করতে ভুয়া অডিও এবং সম্পাদিত ভিডিও ছড়ানো হচ্ছে। প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের অধীন ফ্যাক্টচেক, মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম বাংলাফ্যাক্ট নিয়মিতভাবে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য যাচাই করে জনসাধারণের সামনে প্রকৃত সত্য তুলে ধরছে।

বাংলাফ্যাক্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের এই বিশেষ গবেষণাদল নিয়মিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া ফটোকার্ড, এআই নির্মিত ডিপফেক ভিডিও এবং বিভ্রান্তিকর দাবি পর্যবেক্ষণ করছে। নাগরিকদের যেকোনো সংবেদনশীল রাজনৈতিক ভিডিও বা অডিও শেয়ার করার আগে মূলধারার সংবাদমাধ্যম ও দাপ্তরিক সূত্র থেকে সত্যতা যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: বাসস