বরগুনায় আওয়ামী লীগ নেতার নিষ্ঠুর আচরণ, তুচ্ছ কারণে আটকে রাখলেন দরিদ্র রিক্সাচালকের রিক্সা


bdnews24 bangla newspaper, bangladesh news 24, bangla newspaper prothom alo, bd news live, indian bangla newspaper, bd news live today, bbc bangla news, bangla breaking news 24, prosenjit bangla movie, jeeter bangla movie, songsar bangla movie, bengali full movie, bengali movies 2019, messi vs ronaldo, lionel messi stats, messi goals, messi net worth, messi height

খলিলুর রহমান। একজন দরিদ্র রিক্সাওয়ালা। তিন ছেলেমেয়ে আর স্বামী-স্ত্রীসহ পাঁচ-পাঁচটি পেটের খোরাক যোগাতে হয় তার একারই। থাকেন বরগুনার পোটকাখালী আবাসন প্রকল্পে। লকডাউনের মধ্যেও লুকিয়ে লুকিয়ে দু’একটি ট্রিপ ধরেন খলিল।

ট্রিপ না ধরলে চলবে কী করে? কোলের শিশুসহ তিন-তিনটি ছেলেমেয়ের পেটে তো কিছু দিতেই হবে। স্বামী-স্ত্রী দু’জনে না হয় পেটে পাথর বেঁধে থাকলেন। তাই লুকিয়ে লুকিয়ে ট্রিপ ধরেন খলিল। সবসময় ভয় প্রশাসনের। কখন লাঠি চালিয়ে দেয় পিঠে।

দুরু দুরু বুকে ভয়ভীতি নিয়ে দ্রুতই রিক্সা চালান খলিল। সেদিন বরগুনার নাথপট্টি লেকের মোড়ে সামনে চলতে থাকা একটি মাইক্রোবাস হঠাৎ করেই ব্রেক করে বসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তার রিক্সাটি গিয়ে লাগে সেই মাইক্রোবাসের পেছনের দিকে। বেশ খানিকটা দাগ পড়ে যায় মাইক্রোবাসে।

ব্যাস! অপরাধ ওইটুকুই। ওইটুকু অপরাধে টানা চারদিন দরিদ্র রিক্সা চালক খলিলের রিক্সাটি আটকে রাখেন সেই মাইক্রোবাসের মালিক, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু। শুধু রিকশাই আটকে রাখলেন না, দরিদ্র সেই রিক্সাওয়ালার কাছ থেকে জরিমানা নিলেন পাঁচশত টাকাও।

রিক্সাওয়ালা খলিল বলেন, ‘নেতারা আরও গরীব মানুষের পাশে আইসা দাঁড়ায়। বিশেষ কইরা এই করোনার সময় রিক্সাআলারা কী খাইবে হেই চিন্তা করবে। হ্যা না কইরা হেই নেতায় আমার রিক্সাডা চাইরডা দিন আটকাইয়া রাখলো।

কত অনুনয় বিনয় করলাম, দিলোই না। উপরন্তু আমার কাছ থেইকা জোর কইরা পাঁচ’শ টাহাও জরিমানা রাখছে। আমি আমার এক আত্মীয়র কাছ দিয়া ধার কইরা টাকা আইননা দিছি।’

রিক্সাওয়ালা খলিল আরও বলেন, ‘কত মানষের হাতে পায়ে ধরছি, কইছি আমার রিক্সাডা একটু ছাড়াইয়া আইনা দেন। অনেকেই হ্যার ধারে গেছে। কিন্তু হ্যাগো কতায় আমারে রিক্সা ফেরৎ দেয় নায়।

শ্যাষে বরগুনা শহরের এক ডাক্তার আফায় আছে। যে বেশিরভাগ সময় আমার রিক্সায় আওয়া যাওয়া করে। হ্যারে ধইরা চারদিনের মাথায় আমার রিক্সাডা আমি ফেরৎ পাইছি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন স্থানীয় এলাকাবাসী বলেন, ‘একজন দরিদ্র রিক্সাওয়ালার সাথে একজন রাজনৈতিক নেতার এমন আচরণ কিছুতেই মানায় না। বিশেষ করে যিনি মাঠে ময়দানে সবসময় দরিদ্র মানুষের অধিকার নিয়ে কথা বলেন।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ওই মাইক্রোবাসের মালিক গোলাম সরোয়ার টুকু বলেন এরকম কিছুই ঘটেনি। এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তাছাড়া আমি তার রিক্সাটাও দিয়ে দিয়েছি।

পেপার’স লাইফ/খবর/বরগুনা প্রতিনিধি