বর্ধিত চাহিদা মেটাবে ওপেকবহির্ভূত দেশ



ওপেকভুক্ত নয়, এমন দেশগুলোই থেকে জ্বালানি তেলের বাড়তি চাহিদা মেটাবে বলে মনে করছে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)। এতে উৎপাদন হ্রাস চুক্তির মেয়াদ আরো বাড়াতে বাধ্য হতে পারে ওপেক ও মিত্রদেশগুলা।
উত্তর আমেরিকা, ব্রাজিল ও মেক্সিকোয় উৎপাদন বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে এক সাক্ষাত্কারে আইইএর নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরোল বলেন, আমরা দেখছি ওপেকভুক্ত নয়, এমন দেশগুলো থেকে বাজারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে জ্বালানি তেল আসছে।
তিনি বলেন, ওপেকের বাইরে থেকে পণ্যের সরবরাহ ২০১৯ ও ২০২০ সালের বর্ধিত চাহিদা মেটাতে পারে। কয়েক বছরের মধ্যে আবার বাজার চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। উচ্চচাহিদা, উত্তোলন উপযোগী ক্ষেত্র ও নিম্নবিনিয়োগ মিলে বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছে ওপেক ও মিত্র দেশগুলো। এসব দেশের অর্থনীতি বহুলাংশে জ্বালানি তেলের ওপর নির্ভরশীল। সরবরাহ বৃদ্ধির প্রভাবে দরপতন ঠেকাতে দেশগুলো উৎপাদন হ্রাস চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের শেষ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। এ প্রচেষ্টায় সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। কূপ খনন ও উৎপাদনের নতুন নতুন কৌশল আবিষ্কারের সুবাদে দেশটিতে জ্বালানি তেলের উৎপাদন বাড়ছে। গত নভেম্বরে দেশটিতে পণ্যটির দৈনিক উৎপাদন এক কোটি ব্যারেল ছাড়িয়ে যায়। এ ধারা অব্যাহত থাকলে দেশটি অচিরেই রাশিয়াকে টপকে বিশ্বের শীর্ষ উৎপাদকের স্থান দখল করে নিতে পারে।
গত বছর ব্রাজিলেও জ্বালানি তেল উৎপাদন বেড়েছে। দেশটির জাতীয় জ্বালানি তেল এজেন্সি এএনপির বরাদ দিয়ে সিনহুয়া জানিয়েছে, ২০১৭ সালে ব্রাজিলে জ্বালানি তেল উৎপাদন ৯৬ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল ছাড়িয়ে গেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি।
এদিকে ওপেকের প্রেসিডেন্ট ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট সোহেল আল মাজরৌয়ি বলেন, জনসংখ্যা বাড়তে থাকায় জ্বালানি তেলের চাহিতা মেটাতে ২০৪০ সালের মধ্যে অন্ততপক্ষে ১০ লাখ কোটি ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।
মঙ্গলবার লন্ডনে এক কনফারেন্সে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বলেন, চলতি বছর খুবই আগ্রহ উদ্দীপক। আমরা সরবরাহ চাহিদার মধ্যে সামঞ্জস্যের মাধ্যমে বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরানোর আশা করছি। একই সঙ্গে এ খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিনিয়োগের প্রত্যাশা আছে।
এদিকে বিপি জানিয়েছে, ২০৩৫ সালের মধ্যে জ্বালানি তেল ও তরল জ্বালানির বৈশ্বিক চাহিদা দৈনিক ১১ কোটি ৩ লাখ ব্যারেলে পৌঁছতে পারে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, ২০৪০ সাল পর্যন্ত অপরিশোধিত জ্বালানির চাহিদা বাড়বে।