ভারত, পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্টে নাস্তানাবুদ হওয়া বাংলাদেশ অবশেষে টেস্ট জিতেছে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে বাংলাদেশের জয় ইনিংস ও ১০৬ রানে। বাংলাদেশের এ জয় এসেছে ছয় টেস্ট পর।
হোম অব ক্রিকেট, মিরপুরে বাংলাদেশ চতুর্থ দিনেই দ্বিতিয়বারের মতো জিম্বাবুয়ের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দিয়ে খুব সহজ জয় দিয়েই সিরিজে যাত্রা শুরু স্বাগতিকদের। নাঈম ইসলাম ও তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে দাঁড়াতেই পারেনি সফরকারী ব্যাটসম্যানরা। অলআউট হয়েছে ১৮৯ রানে।
তৃতীয় দিনের শেষ বেলায় দুই উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ে চতুর্থ দিনের শুরুতেও হারিয়েছে দুটি উইকেট। যার একটি তাইজুলের ও অপরটি পকেটে পুড়েন নাঈম।
সেখান থেকে লড়াই করার আভাস দিয়েছিলেন ক্রেগ আরভিন ও সিকান্দার রাজা। তাদের ৬০ রানের জুটি লড়াইয়ের আভাস দিলেও লাঞ্চ বিরতির ঠিক আগে অধিনায়ক আরভিনের রান আউটে সফরকারীদের সব আশাই যেন শেষ করে দিয়েছে।
লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ পাঁচ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রান। লাঞ্চ বিরতি থেকে ফিরে সিকান্দার রাজা ও মারুমা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন।
মুশফিকুর রহিমের দুর্দান্ত ক্যাচে রাজাকে ফেরান বিশেষজ্ঞ বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। এরপর ১৮ রানে চাকাভাকে ফেরান তাইজুল।
এন্সলে এনদিলোভুকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে আউট করেন নাঈম ইসলাম এবং মারুমাকে ৪১ রানে ফিরিয়ে নিজের পঞ্চম উইকেট শিকার করেন এই তরুণ অফ স্পিনার। শেষ উইকেটটি নেন তাইজুল। নাঈমের পাঁচ উইকেটের পাশাপাশি দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুল ফেরান সফরকারী চার ব্যাটসম্যানকে।
এর আগে প্রথম ইনিংসে টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিনের সেঞ্চুরিতে ভর করে ২৬৫ রান করে জিম্বাবুয়ে। বাংলাদেশের হয়ে চারটি করে উইকেট নেন আবু জায়েদ রাহী ও নাঈম হাসান।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে মুশফিকের অপরাজিত ডাবল সেঞ্চুরি আর মুমিনুলের শতকে ৬ উইকেটে ৫৬০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২০৩ রান করে অপরাজিত ছিলেন মুশফিক। মমিনুল হক করেন ১৩২ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
জিম্বাবুয়ে প্রথম ইনিংস: ২৬৫/১০ (আরভিন ১০৭,মাসভাউরে ৬৪; আবু জায়েদ ৪/৭১, নাঈম ৪/৭০)
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৫৬০/৬ ডিক্লে. (মুশফিক ২০২,মুমিনুল ১৩২,শান্ত ৭১, লিটন ৫৩; এনদিলোভু ২/১৭০)
জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ইনিংস: (আরভিন ৪৩, মারুমা ৪১, নাঈম ৫/৮২, তাইজুল ৪/৭৮)
ফলাফল: বাংলাদেশ ইনিংস ও ১০৬ রানে জয়ী

