কাতালান ডার্বিতে বুধবার রাতে ঘরের মাঠ ক্যাম্প ন্যু’তে এস্পানিওলের মুখোমুখি হয়েছিল বার্সেলোনা। এস্পানিওলের সামনে লক্ষ্য ছিল হার এড়ানো। কেননা, তাদের হেরে যাওয়া মানেই ঘটবে অবনমন। আগামী সিজনে খেলতে পারবে না লা লিগা।
এস্পানিওল পারেনি। বার্সেলোনার কাছে হেরেছে ১-০ গোলে। আর তাতেই দ্বিতীয় বিভাগে নেমে গেছে এস্পানিওল। নগর প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে বার্সেলোনার এটি শততম জয়।
ম্যাচে একমাত্র গোল করেন সুয়ারেজ। ম্যাচ জেতানো গোলটির মাধ্যমে বার্সেলোনার ইতিহাসের তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা বনে যান লুইস সুয়ারেজ।
আর এ জয়ে রিয়াল মাদ্রিদের থাকে এক পয়েন্টে পিছিয়ে আছে কিকে সেতিয়েনের শিষ্যরা। ৩৫ ম্যাচে ২৩ জয় ও সাত ড্রয়ে তাদের পয়েন্ট হলো ৭৬। এক ম্যাচ কম খেলা রিয়ালের পয়েন্ট ৭৭।
প্রথমার্ধে বার্সেলোনার পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। লক্ষ্যে রাখতে পারেনি একটি শটও। ২৩ মিনিটে মেসির বাঁকানো ফ্রি-কিক ক্রসবারের একটু ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। দুই মিনিট পর অঁতোয়ান গ্রিজমানের দারুণ থ্রু পাস ধরে দ্রুত ডি-বক্সে ঢুকে পড়লেও শট নিতে দেরি করে ফেলেন সুয়ারেজ।
এছাড়া প্রথমার্ধে বলার মতো পারফরম্যান্স করতে পারেনি মেসি এন্ড কো.। উল্টো ৪৩ মিনিটে প্রতিপক্ষের আরেকটি প্রতি-আক্রমণে আবারও ফুটে ওঠে তাদের রক্ষণের দুর্বলতা। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে উল্টো নিজেদের জালে পাঠাতে বসেছিলেন ক্লেমোঁ লংলে।বল সরাসরি টের স্টেগেনের গায়ে লাগে, আলগা বল পেয়ে দিদাক ভিলার শট পোস্টে লাগলে আরেক দফা বেঁচে যায় স্বাগতিকরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে নেলসন সেমেদোর বদলি হিসেবে মাঠে নামার পাঁচ মিনিটের মাথায় বহিষ্কার হন আনসু ফাতি। প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার ফের্নান্দো কালেরোকে ফাউল করে শুরুতে হলুদ কার্ড দেখেন বার্সেলোনার এই ফরোয়ার্ড। তবে ভিএআরে দেখে সরাসরি তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি।
তিন মিনিট পর ঠিক একইভাবে এস্পানিওলের মিডফিল্ডার পল লোসানোও লাল কার্ড দেখেন। জেরার্দ পিকেকে ফাউল করায় শুরুতে হলুদ কার্ড পেয়েছিলেন তিনি; তবে ভিএআরের সাহায্যে সিদ্ধান্ত বদলে তাকে বহিষ্কার করেন রেফারি।
নাটকীয় মোড় নেওয়া লড়াইয়ে ৫৬ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় স্বাগতিকরা। গ্রিজমানের ব্যাকহিলে বল পেয়ে মেসির নেওয়া শট প্রতিহত হওয়ার পর আলগা বল ফাঁকায় পেয়ে জালে পাঠাতে ভুল হয়নি সুয়ারেসের।
৬৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারত; তবে মেসির জোরাল ভলি রুখে দেন গোলরক্ষক দিয়েগো লোপেস।
যোগ করা সময়ে বার্সেলোনার রক্ষণে চাপ বাড়ায় এস্পানিওল। ৯১ মিনিটে সার্জিও দারদেরের শট আর্তুরো ভিদালের কাঁধের কাছাকাছি জায়গায় লাগলে পেনাল্টির আবেদন করে সফরকারীরা। ভিএআরের সাহায্য নিয়ে তাতে সাড়া দেননি রেফারি।
শেষ মিনিটে তারা ভালো একটি সুযোগ নষ্ট করলে জয়ের হাসিতে মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা।

