শিগগিরই বেসরকারি খাতে হেলিপোর্ট ও অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্স স্থাপনের অনুমতি দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
অনুমোদনে যে নীতিমালা প্রণয়ন করতে যাচ্ছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। তার মধ্যে হেলিপ্যাড, পার্কিং এলাকা, ট্যাক্সিওয়ে, মেইনটেন্যান্স এলাকা, টার্মিনাল ভবন এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপনের জন্য থাকতে হবে কমপক্ষে ৭ একর জমি। আর এ জমি হতে হবে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার কেন্দ্র থেকে পাঁচ নটিক্যাল মাইল দূরে।
শিগগিরই নীতিমালাটি প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করবে মন্ত্রণালয়। নীতিমালায় হেলিপোর্ট স্থাপনের বেশকিছু শর্ত দেয়া হয়েছে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে আগ্রহীকে অবশ্যই বাংলাদেশে নিবন্ধিত ব্যবসায়িক অথবা বিধিবদ্ধ সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হতে হবে।
আবেদনে পর্যাপ্ত অর্থের সংকুলান বা পর্যাপ্ত অর্থপ্রাপ্তির উেসর প্রমাণসহ বিস্তারিত বর্ণনা, জমি প্রতিষ্ঠানের নিজ নামে অথবা প্রস্তাবিত স্থানটি হেলিপোর্ট নির্মাণের জন্য পাওয়া যাবে মর্মে যথাযথ আইনসিদ্ধ চুক্তিপত্র থাকতে হবে।
নীতিমালার খসড়ায় আরো বলা হয়েছে, হেলিপোর্টে হেলিকপ্টার উড্ডয়ন/অবতরণের জন্য কমপক্ষে দুটি হেলিপ্যাড, কমপক্ষে ১০টি হেলিকপ্টারের নিরাপদে পার্কিং, অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সুবিধা, সংযোগ ট্যাক্সিওয়ে, মেইনটেন্যান্স এরিয়া, হেলিপ্যাডের চারদিকে অত্যাবশ্যকীয় নিরাপদ ও প্রতিবন্ধকতামুক্ত এলাকা থাকতে হবে।
এছাড়া প্রয়োজনীয় সব ধরনের কমিউনিকেশন যন্ত্রপাতিসহ প্রয়োজনীয় উচ্চতার এটিসি কন্ট্রোল টাওয়ার, পূর্ণাঙ্গ ফায়ার ফাইটিং সুবিধাসহ একটি ফায়ার স্টেশন, নেভিগেশন ও ল্যান্ডিং যন্ত্রপাতি এবং আবহাওয়ার তথ্য পাওয়ার যন্ত্র, যাত্রী সুবিধাসহ টার্মিনাল ভবন, হেলিকপ্টার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অফিস, হেলিপোর্ট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের অফিস থাকা বাধ্যতামূলক।
উল্লেখ্য, বর্তমানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের হেলিকপ্টারগুলো হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরিচালিত হচ্ছে। এতে বিমানবন্দরে এয়ার ট্রাফিক মুভমেন্ট বাড়ার কারণে হেলিকপ্টারসহ অন্যান্য শিডিউল ফ্লাইটের চলাচল বিলম্বিত হচ্ছে।
সেই সাথে জায়গা সংকুলান না হওয়ায় হেলিকপ্টার পরিচালনা করতে আগ্রহী এমন বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের এয়ার অপারেটরস সার্টিফিকেটপ্রাপ্তির আবেদন ঝুলে আছে। এ অবস্থায় হেলিকপ্টার অপারেটরগুলো নিজ উদ্যোগেই হেলিপোর্ট স্থাপনের অনুমোদন চাইছে।
সম্প্রতি বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই রেখেই বেসরকারি উদ্যোগে হেলিপোর্ট স্থাপন, অনুমোদন পদ্ধতি, পরিচালনার কারিগরি নির্দেশাবলি ও আনুষঙ্গিক অন্যান্য বিষয় সম্পর্কে সবার অনুসরণের জন্য ‘হেলিপোর্ট স্থাপন ও পরিচালনা নীতিমালা-২০১৯’ প্রণয়ন করতে যাচ্ছে সরকার।

