চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মেলাতে না পেরে ভাঙতে চলেছে যুক্তফ্রন্ট? একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ড. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ছেলে মাহী বি. চৌধুরী ও তার দলের মহাসচিব মেজর মান্নান। এতে জোটের অন্য শরিকরা মনক্ষুণ্ন হলেও নির্বাচন পরবর্তী সুযোগ-সুবিধার আশায় চুপ ছিলেন। কিন্তু এখন সেইসব আশা পূরণ না হওয়ায় জোট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
যুক্তফ্রন্টের শরিক দল বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (বাংলাদেশ ন্যাপ) মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, চলতি অর্থ বছরের বাজেট পরবর্তী আলোচনা সভার পর থেকে যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে আমাদের কোনও যোগাযোগ নেই। তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে আমরা যুক্তফ্রন্ট ছাড়ার ঘোষণা দেইনি। তবে বাজেট পরবর্তী আলোচনা সভার পর থেকে আমরা জোটের কোনও কার্যক্রমে অংশ নেইনি।
যুক্তফ্রন্টের শরিকরা বলছেন, সংসদ নির্বাচনে বিকল্পধারার আসন সমঝোতার বিষয় ও পরবর্তীতে বিভিন্ন ইস্যুতে জোটে অস্থিরতা তৈরি হয়। এরপরও চলতি অর্থবছরের বাজেট পেশের পর ২৫ জুন যুক্তফ্রন্টের উদ্যোগে বাজেট ২০১৯-২০২০, বাস্তবায়ন ও চ্যালেঞ্জ শীর্ষক আলোচনা সভায় সবগুলো দল অংশ নেয়। এরপর থেকে যুক্তফ্রন্টের রাজনৈতিক কোনও কার্যক্রম নেই। তবে বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান বি. চৌধুরীর নামে প্রেস রিলিজ দেন তার প্রেস সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর আলম। যদিও এসব প্রেস রিলিজ দেওয়ার আগে জোটের শরিকদের সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয় না। আমরাও এই নিয়ে কোনও আপত্তি করি না। কারণ জোট নিয়ে শরিকদের এখন আগ্রহ নেই।
জোটের শরিক দলের নেতাদের দাবি, ১১টি দল ও কিছু ব্যক্তির সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হলেও লাভবান হয়েছে একমাত্র বিকল্পধারা। জোটের অন্যদলগুলো কথা চিন্তা না করে একাদশ সংসদ নির্বাচনে বিকল্পধারার নেতারা আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে। তারা ২টি আসন পেয়েছে। ক্ষমতাসীন দলও শুধু মাহী বি. চৌধুরী ও মেজর মান্নানের দুটি আসনে ছাড় দিয়েছে। অন্য কোনও দলের নেতাদের ছাড় দেয়নি। এই নিয়ে জোটের শরিকরা মনক্ষুণ্নও হয়। তখনি এই জোট শেষ হয়ে গেছে। তারপরও কেউ কেউ নির্বাচন পরবর্তী সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার আশায় ছিলেন। কিন্তু তা না পেয়ে সবাই হতাশ। তাই সবাই জোট ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

