ভারতে চলমান রাজনৈতিক উত্তাপ ও নির্বাচনী অনিয়মের অভিযোগে বিরোধীদের বিক্ষোভের মধ্যেই শেষ পর্যন্ত অভিজিৎ দীপকের মুক্তি মিললো আদালতের নির্দেশনায়। রাজধানী নয়াদিল্লির একটি আদালত ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা ও শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপকেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন ও মুক্তি প্রদান করেছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) আদালত তাকে ৫০ হাজার রুপির মুচলেকা এবং ভবিষ্যতে এলাকায় শান্তি ও শৃঙ্খলা বিঘ্নিত না করার মুচলেকা মুচলেকায় স্বাক্ষর করার নির্দেশ দিলে তিনি মুক্তি পান। আদেশ জারির কিছুক্ষণের মধ্যেই দিল্লির মন্দির মার্গ থানার পুলিশ হেফাজত থেকে বেরিয়ে আসেন এই তরুণ রাজনৈতিক উদ্যোক্তা।
ভারতে বিগত বেশ কিছু দিন ধরে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার অভাব তুলে ধরে সরব রয়েছে একাধিক বিরোধী দল ও নাগরিক সংগঠন। এই প্রেক্ষাপটে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পক্ষ থেকে দিল্লির কনট প্লেস ও যন্তর মন্তর এলাকায় টানা প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছিল। গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) অনুমতি ছাড়া বড় ধরনের জমায়েত ও ‘তেরঙ্গা মার্চ’ পরিচালনার উদ্যোগ নিলে অভিজিৎ দীপকেকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি ছিল, রাজধানীতে নিরাপত্তা ও শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় ১৪৪ ধারা জারি থাকায় কোনো ধরনের সমাবেশ বা মিছিল করার পূর্ব অনুমতি তাদের কাছে ছিল না। ফলে আইনি বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়ে তাকে মন্দির মার্গ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। এরপরই সারা দেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়। তবে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আইনি প্রক্রিয়ায় অভিজিৎ দীপকের মুক্তি নিশ্চিত হওয়ায় অনুসারীদের মাঝে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
শনিবার বিচারিক আদালতে দীপকেকে হাজির করা হলে আইনজীবী ও পুলিশের উপস্থিতিতে জামিনের শর্তাদি নির্ধারণ করা হয়। বিচারক স্পষ্ট জানিয়ে দেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রতিবাদ করার অধিকার সবার থাকলেও প্রশাসনিক নিয়ম ও জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা আবশ্যক। এই ভিত্তিতেই ৫০ হাজার রুপির জামানত বন্ড জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
থানা প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে আসার পর দীপকে জানান, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে রাজপথের এই প্রতিবাদকে তারা আরও সুসংগঠিত করবেন। নির্বাচনী অনিয়মের বিরুদ্ধে তাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে এবং তরুণদের অধিকার রক্ষায় কোনো ধরনের আইনি চাপ তাদের দমিত করতে পারবে না।
অভিজিৎ দীপকে মূলত ভারতের তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা এক নতুন রাজনৈতিক মুখ। বস্টন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে দেশে ফিরে তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। তার দল সিজেপি অল্প সময়ের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে।

