মুজিববর্ষে মোদির আসা নিয়ে মুনিদের নানা মত


bdnews24 bangla newspaper, bangladesh news 24, bangla newspaper prothom alo, bd news live, indian bangla newspaper, bd news live today, bbc bangla news, bangla breaking news 24, prosenjit bangla movie, jeeter bangla movie, songsar bangla movie, bengali full movie, bengali movies 2019, messi vs ronaldo, lionel messi stats, messi goals, messi net worth, messi height

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর মূল অনুষ্ঠানটি হবে এ বছরের ১৭ মার্চ জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে, সেদিন বঙ্গবন্ধুর জন্মগ্রহণের শতবর্ষ পূর্ণ হবে।

জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অংশ নিতে এ পর্যন্ত বেশ কয়েকজন সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান সম্মতি জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ভুটানের রাজা জিগমে খেশার ন্যামগেল ওয়াংচুক, সংযুক্ত আরব আমিরাতের যুবরাজ জায়েদ আল নাহিয়ান, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি, ভারতের কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ প্রমুখ।

তবে এই মুহূর্তে ভাবনাটা অন্যখানে। ভারতের সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট (সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন, দিল্লির দাঙ্গা ইত্যাদি) তুলে ধরে বাংলাদেশের একটি পক্ষ ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে। মুনিরা দিচ্ছেন নানা মত।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশে আসা প্রতিহতের ঘোষণায় সরকার মোটেও বিব্রত নয় বল জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান। পরে মন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মুজিববর্ষকে সামনে রেখে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে স্বাগত জানানো উচিত।’

তিনি আরও বলেন,সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) কোনো প্রভাব বাংলাদেশের ওপর পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব।

এদিকে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আমন্ত্রণ জানানোর সমালোচনা করে বিরোধী দলের নেতারা বলেছেন, এ বিষয়টি নিয়ে সরকারের চিন্তা করা উচিত। মোদিকে আমন্ত্রণ না জানিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ারও আহ্বান জানান তারা।

সোমবার (২ মার্চ) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে জেএসডির উদ্যোগে পতাকা উত্তোলন দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠানে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা এসব কথা বলেন।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘দিল্লিতে যখন সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হলো, তখন মোদি আসছেন আমাদের দেশে। অভিযোগ আছে, এ দাঙ্গার সঙ্গে মোদির দল জড়িত। এই সময়ে বাংলাদেশে আসাটা কতটুকু শোভনীয় হচ্ছে, সেটা অবশ্যই চিন্তা করা উচিত’।

মোদিকে স্বাগত না জানিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘মোদি বাংলাদেশে যে সময়ে আসছেন, সে সময় দুই হাত প্রসারিত করে থাকা নয়, দুই হাত শক্ত করে রাখা উচিত, তাকে ফেরানোর জন্য। যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়েছে, তাতে মোদিকে স্বাগত জানাতে পারছি না।

মুজিব শতবর্ষের অনুষ্ঠানে নরেন্দ্র মোদিকে প্রধান বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ করার সমালোচনা করে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘এটা মোদিবর্ষ না মুজিববর্ষ? রব নাই, কাদের সিদ্দিকী নাই, মোদিকে আনছেন’। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে মুজিববর্ষ পালনের সমালোচনাও করেন তিনি।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি চিকিৎসক জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, মোদিকে প্রধান বক্তা করা লজ্জার। সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের জন্য মোদিকে ক্ষমা চাওয়ার দাবিও জানান।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘মুজিব বর্ষের অলংকার হিসেবে মোদিকে নিয়ে আসা হচ্ছে। এর অর্থ হচ্ছে ক্ষমতায় থাকতে হবে তোষামোদ করে’।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘সাম্প্রদায়িক ব্যক্তিত্ব’ বলে আখ্যায়িত করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘মোদিকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে আমন্ত্রণ করে সরকার জনসাধারণকে তো অপমান করেছেই, সবচেয়ে বেশি অপমান করেছে বঙ্গবন্ধুকে। বঙ্গবন্ধু কবরে বসে কাঁদছেন’।