বাংলাদেশের ফুটবলে আর সেই দিন নেই। সুদিন ফেরানোর চেষ্টা করলেও যেন ক্রিকেটের কাছে বারবার পরাজিত বাংলাদেশের একসময়ের জনপ্রিয় খেলা ফুটবল।
ফুটবলের জনপ্রিয়তায় অবশ্য কোনো কমতি নেই। ফুটবল বিশ্বকাপের সময় এ দেশের ফুটবল প্রেমীদের আবেগ-ভালোবাসার দেখা মেলে সর্বত্র। তবে এ ভালোবাসার কমতি কেবল দেশের ফুটবলেই।
রাত জেগে বিদেশি লিগ দেখা তরুণ প্রজন্ম এখনো নিজ দেশের ফুটবলের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। অবশ্য দেশের ফুটবলের মধ্যে থাকা রাজনীতি, গুনগত মান এমন পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
বাপ-দাদাদের আমলের ফুটবলের গল্প শুনে বিমোহিত হই। অবাক হয়ে ভাবি, বাংলাদেশের ফুটবলেও এমন দিন ছিল! সেই সময়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, আবাহনী-মোহামেডান লড়াই যেন ছিল আজকের বার্সেলোনা-রিয়াল মাদ্রিদ লড়াইয়ের পূর্ব দৃশ্য।
বাংলার ফুটবলে সে জৌলুস তখন নেই। জৌলুস নেই মোহামেডান শিবিরে। আর তাইতো একসময়ের অভিজাত ক্লাব দেশীয় লিগে রেলিগেশনের শঙ্কায় দিন পার করে।
আবাহনী তাদের পুরোনো ঐতিহ্য ধরে রাখলেও, মোহামেডান তার বিপরীত। সাদাকালো শিবিরে তাদের ইতিহাসও সাদাকালো, পুরোনো অতীত।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএলে) ফুটবলে ১২তম রাউন্ডের খেলা শেষ হয়েছে। ১৩ দলের এই লিগে মোহামেডানের অবস্থান ১২ নম্বরে। ১২ ম্যাচ খেলে জয় মাত্র ১টিতে। হেরেছে ৮টি ও ড্র ৩টিতে।
মোহামেডানের পরে আছে কেবল কোনো ম্যাচ জিততে না পারা টিম বিজেএমসি।
শীর্ষে রয়েছে নবাগত দল বসুন্ধরা কিংস। ১২ ম্যাচে ১১ জয় নিয়ে মোট পয়েন্ট ৩৪। ১০ জয়ে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে ঢাকা আবাহনী।
তিনে থাকা শেখ রাসেলের পয়েন্ট ২৭ এবং চারে আছে আরেক নবাগত দল সাইফ স্পোর্টিং। তাদের পয়েন্ট ২৩।
পাঁচ ও ছয় নম্বরে আছে আরামবাগ ক্রীড়া চক্র (১৯ পয়েন্ট) ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ (১৫ পয়েন্ট)। সাত ও আটে থাকা শেখ জামাল ও চট্টগ্রাম আবাহনীর পয়েন্ট সমান ১৪। গোল ব্যবধানে এগিয়ে শেখ জামাল।


নয়, দশ ও এগারোতে আছে যথাক্রমে রহমতগঞ্জ (১২ পয়েন্ট), নোফেল স্পোর্টিং (৯ পয়েন্ট) ও ব্রাদার্স ইউনিয়ন (৮ পয়েন্ট)।
বারো ও তেরো নম্বর পজিশনে থেকে রেলিগেশন জোনে আছে মোহামেডান স্পোর্টিং ও টিম বিজেএমসি। তাদের পয়েন্ট যথাক্রমে ৬ ও ৪ পয়েন্ট।
খুব খারাপ সময় পার করে মোহামেডান যদি তাদের বর্তমান ফর্মকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যেতে না পারে, তাহলে দ্বিতীয় বিভাগে নেমে যেতে সময় লাগবে না সাদাকালোদের।

