দেশের বাগানগুলো থেকে আন্তর্জাতিক নিলামে তুলনামূলক নিম্নমানের চা সরবরাহ বেড়েছে। ফলে নিলামে চায়ের গড় মূল্য আগের তুলনায় কমেছে। মৌসুমের শেষ কয়েকটি নিলামে পানীয় পণ্যটির গড় দাম আরো কমতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামে চলতি মৌসুমের ৪১তম আন্তর্জাতিক নিলাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিলামে ৪১ হাজার ৫৬১ প্যাকেটে মোট ২২ লাখ ৭৪ হাজার ৬১৯ কেজি চা বিক্রির জন্য প্রস্তাব করা হয়েছিল। নিলামে সরবরাহ করা ৭৫ শতাংশ চা বিক্রি হয়েছে। সর্বশেষ নিলামে চায়ের গড় দাম ছিল কেজিপ্রতি ১৮৭ টাকা, যা আগের নিলামের তুলনায় কেজিতে ৫ টাকা কম। চলতি মৌসুমের ৩৬তম নিলাম থেকে চায়ের দাম ধারাবাহিকভাবে কমতে শুরু করেছে।
চায়ের আন্তর্জাতিক নিলাম প্রতিবেদন পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, চলতি মৌসুমের ২৯তম নিলামে চায়ের সর্বোচ্চ দাম উঠেছিল। এ সময় পানীয় পণ্যটি বিক্রি হয় কেজিপ্রতি ২৩১ দশমিক ৭৬ টাকায়। এরপর ৩৫তম নিলাম পর্যন্ত চায়ের গড় দাম কেজিপ্রতি ২৩০-২৩১ টাকায় ওঠানামা করেছিল। তবে ৩৬তম নিলাম থেকে পণ্যটির গড় দাম কমতে শুরু করে। এর মধ্যে ৩৬তম নিলামে প্রতি কেজি চায়ের গড় দাম ছিল ২২৫ টাকা ৭৬ পয়সা। ৩৭তম নিলামে পণ্যটির গড় দাম আরো কমে দাঁড়ায় ২২৪ টাকা ৫৮ পয়সায়। আর ৩৮ ও ৩৯তম নিলামে প্রতি কেজি চা বিক্রি হয়েছিল যথাক্রমে ২১৬ টাকা ১৮ ও ২০৩ টাকা ৮৯ পয়সায়। ৪০তম নিলামে পণ্যটির গড় দাম কেজিপ্রতি আরো কমে দাঁড়ায় ১৯২ টাকায়।
মূলত মৌসুমের শেষ দিকে বাগান থেকে আশানুরূপ ভালো মানের চা সরবরাহ না হওয়ায় বিক্রি বেশি হলেও বড় ধরনের দরপতন দেখা গেছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে সর্বশেষ ৪১তম নিলামে প্রতি কেজি চায়ের গড় দাম ১৮৭ টাকা হলেও আগের মৌসুমের একই নিলামে পণ্যটি কেজিপ্রতি ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এ বিষয়ে টি ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টিটিএবি) সাবেক সহসভাপতি আবদুল হাই বণিক বার্তাকে বলেন, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় কাঙ্ক্ষিত চা উৎপাদন হয়নি। ফলে নিলাম বাজারে চায়ের চাহিদা ছিল বেশি। সর্বশেষ কয়েকটি নিলামে ভালো মানের চা সরবরাহ কমে যাওয়ায় দামও কমেছে। শেষ সময়ে মজুদপ্রবণতায় নিলাম থেকে চা সংগ্রহ বাড়লেও কম দামের চা সংগ্রহে ক্রেতাদের অনীহা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে বাংলাদেশ চা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজধানীতে দ্বিতীয়বারের মতো শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ চা প্রদর্শনী। তিন দিনব্যাপী এ প্রদর্শনী উপলক্ষে আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় চায়ের ৪২তম নিলাম স্থগিত করা হয়েছে। তাছাড়া চলতি মৌসুমে সরবরাহ কম থাকার কারণে বাতিল করা হয়েছে ৪৫তম (মৌসুমের সর্বশেষ) নিলামও। চা বোর্ডের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, চা প্রদর্শনী চলমান থাকায় চলতি মৌসুমের পরবর্তী আন্তর্জাতিক নিলাম (৪২তম) ২০ ফেব্রুয়ারির পরিবর্তে ২৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। আর ২৭ ফেব্রুয়ারির পূর্বনির্ধারিত ৪৩তম নিলাম অনুষ্ঠিত হবে মার্চের ৬ তারিখ। একই দিন হওয়ার কধা ছিল চায়ের ৪৪তম আন্তর্জাতিক নিলাম। এ নিলামের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩ মার্চ। এদিকে মৌসুমের সর্বশেষ ৪৫তম নিলাম বাতিল হওয়ায় এবার পণ্যটি নিলামের সংখ্যা একটি কমবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দেশে প্রতি বছর এপ্রিলে চায়ের আন্তর্জাতিক নিলাম মৌসুম শুরু হয়। ১১ মাসব্যাপী ৪৫টি নিলামের মাধ্যমে দেশের ১৬৪টি বাগানে উৎপাদিত চা চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক নিলামের মাধ্যমে বিপণন করা হয়। প্রতি সপ্তাহের মঙ্গলবার চা নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। নিলামে দেশী-বিদেশী ক্রেতাপ্রতিষ্ঠানগুলো চা কিনে থাকে। চলতি মৌসুমের বেশির ভাগ সময়জুড়ে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে চা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় নিলামের সংখ্যা কমানো হয়েছে।
