দিন বদলেছে, বদলেছে সময়। সময়ের সাথে সাথে শক্ত হয়েছে বাংলাদেশ দল। তবে মাশরাফির অপরিহার্যতা কি কমেছে?
বোধহয় না। আজও মাশরাফি সেই সমান উদ্দমে লড়াই করে। আজও মাশরাফির উপর ভরসা করেই এগিয়ে যেতে হয়। সে যে আমাদের ক্যাপ্টেন। ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক।
প্রস্তুতি ম্যাচ হেরে কোণঠাসা বাংলাদেশ। ফিরে আসা দরকার ছিল। এভাবেই দরকার ছিল এগিয়ে যাওয়া। মাশরাফির ছোঁয়ায় এগিয়ে যাওয়ার মূলমন্ত্র নিয়ে হার না মানা যুদ্ধে লাল-সবুজের সেনানিরা।
ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচেই উইন্ডিজ দল দেখিয়েছে তাদের ক্ষমতা। শাই হোপ ও জন ক্যাম্পবেলের জোড়া শতকে আয়ারল্যান্ডের অসহায় আত্মসমর্পণ বেশ টাটকা স্মৃতি।
আজ ছিলেন না ক্যাম্পবেল। তবে গত ম্যাচের লড়াকু মনোভাব নিয়ে শুরু করা শাই হোপ আবারো ছড়ি ঘুড়িয়েছে বাংলাদেশের উপর। করেছেন ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। টানা দ্বিতীয়, বাংলাদেশের বিপক্ষে হ্যাটট্রিক।
মিরাজ, সাকিবের জোড়া আঘাতের পর রোস্টন চেজ ও শাই হোপের শতরানের পার্টনারশিপ এগিয়ে যাচ্ছে একটু একটু করে। দুইশ পেরিয়েছে উইন্ডিজ, হারিয়েছে মাত্র দুই উইকেট।
নিজের স্পেলের আট ওভারে লাগাম টেনে ধরা মাশরাফি নবম ওভারে অর্ধশতক করা চেজকে আউট করে এনে দিলেন গুরুত্বপূর্ণ ব্রেক থ্রু।
এর পরের ওভারে থামালেন ১০৯ করা শাই হোপকে। একই ওভারে অধিনায়ক জেসন হোল্ডারকে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে নিলেন ম্যাচে নিজের তৃতীয় উইকেই।
সেই সাথে আব্দুর রাজ্জাকের লিস্ট এ ক্রিকেটে ৪১১ উইকেটকে পেছনে ফেলে নতুন রেকর্ড গড়লেন। মালিক হলেন লিস্ট এ ক্যারিয়ারে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেটের। মাশরাফির মোট উইকেট ৪১৩।
বয়স হয়ে গিয়েছে, ইনজুরি থামিয়েছে বহুবার। ক্যারিয়ারের শুরুতে গতির ঝড় তোলা মাশরাফি হাতি কমিয়েছেন। কিন্তু কখনোই লাইন লেন্থের সাথে আপোষ করেননি। তার প্রভাবেই যেন এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের সেরা পেস বোলার হয়েই আছেন।
বিশ্বকাপের জন্য উড়াল দেওয়ার আগেই জানিয়েছেন এটিই তার জন্য শেষ বিশ্বকাপ। তবে কবে নাগাদ অবসর নিবেন জানাননি এখনো। ভক্তদের ইচ্ছা দেশের মাটিতে অবসর নিক তাদের প্রিয় খেলোয়াড়টি।
মাশরাফির অবসর নিতে এখনো ঢের বাকি। তবে সময় যে দ্রুত এগিয়ে আসছে। একসময় ব্যাট প্যাড তুলে রাখতেই হবে। বিদায় নিবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অভিভাবক, দেশ সেরা পেসার। তখন কি হবে? মানতে পারবেন কি?

