যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার চায় বাংলাদেশ



যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদার এবং বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাশমোলিয়ান জাদুঘর পরিদর্শনকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এই আগ্রহের কথা জানান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, জাদুঘর কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী অ্যাশমোলিয়ান জাদুঘর পরিদর্শন করেন। এ সময় যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আবদুল মুহিত এবং লন্ডনস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনের ঊর্ধ্বতন কূটনৈতিক কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাশমোলিয়ান জাদুঘরের পূর্বাঞ্চলীয় শিল্পকলা বিভাগের প্রধান ও কিউরেটর ড. মালিকা কুম্বেরা ল্যান্ড্রুসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন। বৈঠকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের সংশ্লিষ্ট সাংস্কৃতিক, জাদুঘর ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আলোচনায় দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি বাংলাদেশের সমকালীন চারু ও কারুশিল্পীদের আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরা এবং দেশের সৃজনশীল অর্থনীতির প্রসারে যৌথ গবেষণা ও প্রদর্শনী আয়োজনের সম্ভাবনাগুলো খতিয়ে দেখা হয়।

সফরকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাশমোলিয়ান জাদুঘরে আয়োজিত বাংলাদেশি শিল্পী সোমা সুরভী জান্নাতের ‘ক্লাইমেট, কালচার, কেয়ার’ শীর্ষক বিশেষ চিত্রকর্ম ও শিল্প প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের কোনো জাদুঘরে বাংলাদেশে অবস্থানরত কোনো শিল্পীর এটিই প্রথম একক প্রদর্শনী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।

শামা ওবায়েদ ইসলাম প্রদর্শনীতে স্থান পাওয়া শিল্পকর্মগুলোর বিষয়বস্তুর গভীরতা, ব্যাপ্তি, জলবায়ু সচেতনতা ও সৃজনশীল উপস্থাপনার প্রশংসা করেন। প্রদর্শনী পরিদর্শনের পাশাপাশি জাদুঘরের কিউরেটরিয়াল দলের সদস্যদের সঙ্গে তিনি অ্যাশমোলিয়ান জাদুঘরের নির্বাচিত ঐতিহাসিক সংগ্রহশালাও ঘুরে দেখেন এবং সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা ও পররাষ্ট্রনীতির কার্যকর মাধ্যম হিসেবে সাংস্কৃতিক কূটনীতিকে এগিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সমকালীন শিল্পকলার স্বীকৃতি বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে এই সফর সহায়ক হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাশমোলিয়ান জাদুঘরের এই প্রদর্শনীতে জলবায়ু পরিবর্তন, লোকজ সংস্কৃতি এবং পরিবেশ সুরক্ষার পারস্পরিক সম্পর্ককে শিল্পীর তুলিতে তুলে ধরা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের শিল্পীদের এই সরাসরি সংযোগ দেশের সৃজনশীল অর্থনীতি ও সাংস্কৃতিক কূটনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছে ঢাকা।

সূত্র: বাসস