সুপ্রাচীনকালে ভ্রমণ কিংবা স্থানান্তরজনিত কারণে অতিথিশালা ও সরাইখানা উৎপত্তি হয়। ভ্রমণকারীদের খাদ্যের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই রেস্তোরাঁ ব্যবস্থাপনার ধারণা সৃষ্টি হয়। কিন্তু বর্তমানে দৈনন্দিন জীবনের সাথেই জড়িয়ে গেছে রেস্তোরা। বন্ধুদের সাথে ঘোরাঘুরি থেকে পরিবারের সাথে ভাল সময় কাটানোর জন্য আমরা রেস্তোরাকেই বেছে নিচ্ছি। কিন্তু এরকমই কোন একদিন যদি আমরা দেখি রেস্তোরায় খাবার পরিবেশন করছে বানর।
জাপানের কায়াবুকিয়া টেভার্ন রেস্তোরাঁ দেশটির যেকোনো ঐতিহ্যবাহী খাবারের দোকানের মতো। সেখানে খেতে গিয়ে অন্যান্য রেস্তোরাঁর মতো ফরমাশ দিলে সময়মতো চলেও আসে খাবার। তবে এর বিশেষত্ব কী?
এর বিশেষত্ব হলো, এই হোটেলে খাবার পরিবেশন করে বানর। অবাক হওয়ার মতোই বিষয়টি। উত্তর টোকিওর এ রেস্তোরাঁয় ‘ইয়াত চ্যান’ ও ‘ফুকো চ্যান’ নামের দুটি ম্যাকাক বানর বেশ কয়েক বছর ধরে পরিচারক হিসেবে কাজ করছে। বানর বলে তারা যে কাজে অদক্ষ, এমনটি ভেবে নিলে ভুল করবেন।
রেস্তোরাঁয় এসে চেয়ারে বসলেই ‘ইয়াত চ্যান ‘ও ‘ফুকো চ্যান’-এর যেকোনো একজন এসে হাজির হয়। তাদের পরনে থাকে একদম সাধারণ খাদ্য বাহকের পোশাকই। কে কী খাবে, এ বিষয়ে ফরমাশ নেয় একজন। অন্য আরেকজন নিপুণভাবে পরিবেশন করে খাবার। আগত অতিথিরা দুই বানরের এমন কাণ্ডে বিস্মিত না হয়ে পারেন না। তাদের জন্য মাঝেমধ্যে উপহার হিসেবে ‘সয়াবিন’ নিয়ে আসেন তাঁরা।
রেস্তোরাঁর মালিক কাউরু আতসুকা। পোষা বানর দুটি তাঁর খুব আদরের। ফুকো চ্যানের বয়স ১৭, ইয়াত চ্যান তার চেয়ে ছোট। দক্ষতার সঙ্গে কাজ করাই প্রতিদিন তাদের বেতনও দেন কাউরু আতসুকার। আর বেতন হিসেবে দেওয়া হয় বড়সড় কলা।

