রক্তপাতহীন নির্বাচনে সন্তোষ প্রকাশ এনসিপির



ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ঐতিহাসিক গণভোট বড় ধরনের কোনো সহিংসতা বা রক্তপাত ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। বৃহস্পতিবার রাতে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমিন এই নির্বাচনকে ‘গণতন্ত্রের নতুন সূর্যোদয়’ হিসেবে অভিহিত করেন।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে মনিরা শারমিন নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে দলের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের নির্বাচনি ইতিহাসে আজ এক নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। পেশিশক্তি ও বুলেটের বদলে ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ তাদের রায় দিয়েছে।”

সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সংসদীয় নির্বাচনে বরাবরই সংঘাতের একটি কালো মেঘ লেগে থাকে। তবে ২০২৬-এর এই নির্বাচনে সেই চিত্র পুরোপুরি ভিন্ন ছিল। মনিরা শারমিন তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সারা দেশে বিক্ষিপ্ত কিছু যান্ত্রিক গোলযোগ বা ভুল বোঝাবুঝি ছাড়া কোথাও প্রাণহানি বা বড় ধরনের কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেছি। ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়েছেন, যা গত কয়েক দশকে আমাদের দেশের জন্য এক দুর্লভ দৃশ্য ছিল। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা এই অর্জনের পেছনে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।”

সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে অনুষ্ঠিত হওয়া গণভোট নিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যাপক আগ্রহ ছিল। এনসিপি মনে করে, এই গণভোটের মাধ্যমেই রাষ্ট্র সংস্কারের চূড়ান্ত জনমত প্রতিফলিত হবে। মনিরা শারমিন বলেন, “জাতীয় নাগরিক পার্টি শুরু থেকেই একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার দাবি জানিয়ে আসছিল। আজকের এই শান্তিপূর্ণ ভোট প্রমাণ করে যে, দেশের মানুষ সংঘাত নয়, বরং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে পরিবর্তন চায়।”