করোনা আতঙ্কে রাজধানীতে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার মজুত প্রতিরোধ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারি কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর মিটফোর্ড, শাহবাগ, গুলশান, বনানী, মহাখালী ও সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল এলাকার আশেপাশে অভিযান পরিচালনা করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, র্যাব ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর।
র্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত মঙ্গলবার দুপুর পুরান ঢাকার মিটফোর্ডের সুরেশ্বরী মেডিসিন প্লাজা ও এর আশপাশের এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার উচ্চদামে বিক্রি ও মজুত করে রাখার অপরাধে একজনকে জেল ও বিভিন্ন ফার্মেসিকে ১৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন তিনি।
এসময় তপু অ্যাণ্ড ব্রাদার্সকে ২০ হাজার, দেওয়ান এন্টারপ্রাইজের এক ব্যক্তিকে একবছর জেল ও ৬ লাখ, আল ওয়ায়ী সার্জিক্যালকে ১ লাখ, মেসার্স লোকনাথ ড্রাগ হাউজকে ৭৫ হাজার, মা মেডিসিন হাউসকে দেড় লাখ, ওয়েব মেডিসিনকে তিন লাখ, আনোয়ার সার্জিক্যালকে দুই লাখ, এবং সার্জি গ্লো হাউজকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
সারোয়ার আলম জানান, এসব প্রতিষ্ঠান বেশি দামে মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিক্রি করছিল। তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে। এরপর তাদের দণ্ড দেওয়া হয়েছে। র্যাবের আরও একটি টিম রাজধানীর কলেজ গেট ও মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে।
এই টিমের নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আক্তারুজ্জামান। অভিযানের সময় দেখা গেছে এই এলাকার বেশির ভাগ ফার্মেসির সামনেই লেখা রয়েছে ‘মাস্ক নেই’ । যদিও ফার্মেসিগুলোতে মজুত ছিল বিপুল পরিমাণ এসব পণ্য। মঙ্গলবার দুপুরে আকস্মিক অভিযানে নামে র্যাব-২।
মাস্ক ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার মজুত প্রতিরোধ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাজধানীতে এই অভিযানে একজনকে জেল এবং অর্ধশত প্রতিষ্ঠানকে ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের অধিক মুনাফা লাভের অপচেষ্টা প্রতিরোধে এই অভিযান টানা চলবে বলে জানিয়েছেন অভিযান পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান।

