রেকর্ড গড়ে শ্রীলঙ্কা বধ করল বাংলাদেশ



ওয়ানডেতে বাংলাদেশ পেয়েছে নিজেদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জয়। বোনাস পয়েন্ট নিয়ে তাই ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালও নিশ্চিত করল টাইগাররা।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জয় ছিল ৯০ রানের। রানের দিক দিয়ে ওটাই বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার একমাত্র জয় ছিল। আজ দ্বিতীয় জয়টা এল ১৬৩ রানের ব্যবধানে। রানের দিক দিয়ে এটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়ের রেকর্ড।
নাসিরকে দিয়েই বোলিংয়ের শুরুটা করেছিল বাংলাদেশ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সব সময় যে কৌশলটা নেওয়া হয় আর কী! কোচ থাকা অবস্থায় হাথুরুসিংহে যে কৌশল অনেকবারই ব্যবহার করেছেন, সে কৌশলেই প্রথম উইকেটটা তুলে নেয় বাংলাদেশ। নাসিরের বলে বোল্ড হন ‘ডেঞ্জারম্যান’ কুশল সিলভা। এরপর অভিজ্ঞ উপুল থারাঙ্গা আর কুশল মেন্ডিস মিলে শুরুর ক্ষতিটা সামলে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বড় বিপদের কারণ হয়ে ওঠার আগেই থারাঙ্গাকে (২৫) মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ বানিয়ে ফেরান অধিনায়ক মাশরাফি। মেন্ডিসও বেশিক্ষণ টেকেননি (দলীয় ৬২ রানে)। মাশরাফির বলেই রুবেলকে ক্যাচ দেন। ৮২ রানে মোস্তাফিজের বলে বোল্ড হন নিরোশান ডিকভেলা।
৮২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা শ্রীলঙ্কার জন্য ‘আশা’ হয়ে ছিলেন দিনেশ চান্ডিমাল। এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে ‘বিপদ’ হতে দেননি সাকিব। সরাসরি থ্রোতে চান্ডিমালকে রানআউট করে বাংলাদেশকে জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে দেন। উজ্জীবিত সাকিব পরের ওভারে নিজে বল হাতে গুঁড়িয়েই দেন শ্রীলঙ্কাকে। আকিলা গুনারত্নে, ওয়ানিদু হাসারাঙ্গাকে পরপর দুই বলে ফেরালেন, দাঁড়ালেন হ্যাটট্রিকের সামনে। সেটা না হলেও পরে অনেকবার বাংলাদেশের বিপদের কারণ হয়ে দেখা দেওয়া, আজও ফণা তুলে দাঁড়ানো থিসারা পেরেরাকে আউট করেছেন।
রুবেল নেন দনাঞ্জয়ার উইকেটটি। মাত্র ৫১ রানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ৩২.২ ওভারে ১৫৭ রানেই অলআউট হয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। শ্রীলঙ্কার শেষ ৮ উইকেটই আসলে পড়েছে ৯৫ রানে। এখান থেকেই বোঝা যায়, বাংলাদেশ ওদের জুটিই গড়তে দেয়নি। শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ জুটিই ছিল ৪১ রানের। এরপরের বড় জুটিটা ৩৩ রানের।
মাশরাফি আজ দুর্দান্ত বোলিং করেছেন। ৮ ওভারে ১ মেডেনে ৩০ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নিজের কার্যকারিতাই প্রমাণ করেছেন। নাসির ব্যাটসম্যানের চেয়ে যেন বোলার হিসেবেই এগিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর কাছে বল হাতে যে প্রত্যাশা, সেটি বারবারই পূরণ করে যাচ্ছেন। আজও কুশল পেরেরার উইকেটটি তুলে নিয়ে শুরুতেই শ্রীলঙ্কার আত্মবিশ্বাসটা শেষ করে দেন।
মোস্তাফিজ আগের ম্যাচেই ছন্দে ফিরেছিলেন। আজও মন্দ করেননি। ৫ ওভার বল করে ২০ রানে ১ উইকেট নিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এনে দিয়েছেন ব্রেক থ্রু। সাকিবের ৩ উইকেট ৪৭ রানে। ব্যাটে-বলে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়ে আজও ম্যাচের সেরা সাকিব। সাইফউদ্দিন অবশ্য নিজেকে মেলে ধরার খুব বেশি সুযোগ পাননি।
গত অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পরপরই হাথুরু বাংলাদেশের দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছিলেন হঠাৎ করেই। শ্রীলঙ্কার কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়টা যে হাথুরুর জন্য অনেক কঠিন হতে যাচ্ছে, সেটা তিনি বুঝে গেছেন বাংলাদেশের ত্রিদেশীয় সিরিজেই।