সোমবার রাতে লাদাখ সীমান্তে ভারত-চীন সেনাদের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। এ বিষয়ে ভারতকে হুশিয়ার করে দেওয়ার পর পাল্টা জবাবে বেইজিংয়ের উদ্দেশে নয়াদিল্লি বলেছে, শান্তি প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি ভারত তার সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখ-তা সুনিশ্চিত করতে সব সময় প্রস্তুত থাকবে।
ভারতের বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের বরাতে এনডিটিভি জানিয়েছে, সামরিক সংঘর্ষে দেশটির অন্তত ২০ সেনা নিহত হয়েছেন। প্রথমে অবশ্য এক সেনা কর্মকর্তাসহ তিনজনের মৃত্যুর খবর দিয়েছিল গণমাধ্যমটি।
প্রাথমিক খবরগুলোয় গুলিতে নয়, বরং মুখোমুখি সংঘর্ষের সময় পাথরের আঘাতে ভারতীয় সেনাদের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছিল।
এএনআইকে উদ্ধৃত পরে এনডিটিভি জানিয়েছে, চীনের ৪৩ সেনার মৃত্যু হয়েছে। চীনের রাষ্ট্রপক্ষীয় গণমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছিল, বেইজিংও স্বীকার করেছে, তাদেরও সৈনিকরা হতাহতের শিকার হয়েছে। তবে কতজন নিহত বা আহত হয়েছে, এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিকভাবে চীনের পক্ষ থেকে কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
রয়টার্স লিখেছে, হিমালয় পর্বত অঞ্চলের বিতর্কিত লাদাখ সীমান্তে দুই পক্ষের সৈন্যদের সংঘাতে প্রায় ৫৩ বছর পর প্রথম প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে সোমবার রাতে। উত্তেজনা প্রশমনে পারমাণবিক অস্ত্রধারী প্রতিবেশী এ দুই দেশের জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তারা গতকালই লাদাখে বৈঠকে বসার কথা ছিল।
এনডিটিভি লিখেছে, চীনেরও সৈন্য হতাহতের শিকার হয়েছে, এটি ‘স্বীকার করে’ নিয়ে বেইজিং হুশিয়ারি দিয়েছে, নয়াদিল্লিকে যেন আর ঝামেলা বাড়ানোর চেষ্টা না করে।
চীনের এ হুশিয়ারির জবাবে ভারত কী ভাবছে, গণমাধ্যমের এমন প্রশ্নের বিপরীতে পরে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেছেন, ‘সীমান্ত অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখতে এবং সংলাপের মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে সব সময়ই বদ্ধপরিকর আছি। কিন্তু একই সঙ্গে আমরা ভারতের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা ও আঞ্চলিক অখ-তা সুনিশ্চিত করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝ্যাও লিজিয়ান বলেছেন, ভারতীয় সৈন্যরা সোমবার অন্তত দুবার সীমান্ত অতিক্রম করে অনুপ্রবেশের পর চীনা কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। যে কারণে দুপক্ষের সৈন্যদের গুরুতর শারীরিক সংঘাত হয়েছে। সৈন্যদের সীমান্ত অতিক্রম ও সংঘাতে জড়ানোর এ ঘটনায় দিল্লির কাছে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বেইজিং।
লিজিয়ান বলেন, ‘আমরা আবারও আন্তরিকভাবে অনুরোধ করছি, বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি বদল করে ভারত তাদের সম্মুখসারীর সৈন্যদের সংযত রাখবে। চীনা এ কর্মকর্তা বলেন, সীমান্ত অতিক্রম করবেন না, ঝামেলা বাড়ানোর উসকানি দেবেন না। সীমান্ত পরিস্থিতি জটিল করে তোলে এমন কোনো একপাক্ষিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন না।’
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই দাবি করেছে, লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় সংঘর্ষে চীনের সেনাবাহিনীর নিহত ও গুরুতর আহত জওয়ানের সংখ্যা ৪৩। নিজেদের কমপক্ষে ২০ সেনা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে ভারত।

