আরেক ম্যাচে বাংলাদেশের হার। ইংল্যান্ডের দেওয়া হিমালয়সম ৩৮৭ রানের জবাবে এক সাকিবই যা একটু লড়লেন। করলেন সেঞ্চুরি। তারপরও টাইগাররা হেরেছে ১০৬ রানে।
টসে হেরে ব্যাট করতে নেমেই দূরন্ত সূচনা এনে দেন দুই ইংলিশ ওপেনার জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টো। মাত্র ১৫ওভারেই একশো পেরোনোর পর দলীয় ১২৮ রানের মাথায় মাশরাফির বলে মেহেদী হাসান মিরাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান বেয়ারস্টো।
এরপর আবার রুটকে নিয়ে ৭৭ রানের পার্টনারশিপ গড়েন জেসন রয়। দলীয় ২০৫ রানের মাথায় জো রুটকে সরাসরি বোল্ড আউট করে ফেরান সাইফউদ্দীন। ফিরে যাওয়ার আগে জো রুট ২৯ বল থেকে ২১ রান করেন।
জো রুট ফিরে যাওয়ার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি ওপেনার জেসন রয়। দলীয় ২৩৫ রানের মাথায় এবার মেহেদী হাসান মিরাজের বলে মাশরাফির হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন জেসন রয়। আউট হওয়ার আগে খেলেন ১২১ বলে ১৫৩ রানের ইনিংস। এর আগে ৩৮ বলে অর্ধশতক ছোঁয়া রয় ৯২ বলের মাথায় সেঞ্চুরির দেখা পান। রয়ের ইনিংস জুড়ে ছিলো ১৪টি চার ও ৫টি ছয়ের মার।
রয় ফিরে যাওয়ার পর অধিনায়ক মরগানকে নিয়ে ৯৫ রানের পার্টনারশিপ গড়েন জস বাটলার। ৪৪ বলে ৬৪ রান করা বাটলার দলীয় ৩৩০ রানের মাথায় সাইফউদ্দীনের বলে সৌম্য সরকারের হাতে দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন।
বাটলার যাওয়ার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি অধিনায়ক মরগানও। দলীয় ৩৪০ রানের মাথায় মিরাজের বলে সৌম্য সরকারের হাতে কাঁটা পড়েন মরগান। এরপরেই ৩৪১ রানের মাথায় মোস্তাফিজের বলে মাশরাফির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরত যান বেন স্টোকস।
তখন ইনিংসের বাকি ছিলো মাত্র ১৭ বল। বাংলাদেশের বোলাররা নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের আশা জাগালেও শেষে ক্রিস ওকস ও লিয়াম প্ল্যাংকেটের ৪৫ রানের ঝড়েই ৩৮৬ রানের বড় সংগ্রহের দেখা পায় ইংল্যান্ড। ক্রিস ওকস ১৮(৮) রানে ও লিয়াম প্ল্যাংকেট ২৭(৯) রানে অপরাজিত থাকেন।
যে মাঠে ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানরা রানের ফুলঝুড়ি ছোটালেন, সেখানে ব্যাট করতেই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ঘাম ছুটে যাওয়ার দশা। তবে এক সাকিব আল হাসানকে এই তালিকা থেকে বাদ রাখতে হবে।
জবাবে, ইনিংসের শুরুতেই ওপেনার সৌম্যর বিদায়ে বাংলাদেশ যে চাপে পড়ে, সেই চাপ কাটিয়ে না উঠতেই দলীয় ৬৩ রানে তামিমের বিদায় ঘটে। এরপর মুশফিককে নিয়ে তরী বাইতে থাকেন সাকিব। দুজনে মিলে ১০৬ রানের পার্টনারশিপ গড়লে আশা দেখতে থাকে বাংলাদেশ। কিন্তু দলীয় ১৬৩ রানে ৪৪ রান করা মুশফিক আউট হয়ে ফেরত গেলে বাংলাদেশও আশা হারাতে থাকে। এরপর মোহাম্মদ মিঠুন তো কোনো রান না করেই আউট হয়ে ফেরত যান প্যাভিলিয়নে।
মাহমুদুল্লাহকে নিয়ে আগাতে থাকেন সাকিব। হার যে নিশ্চিত, এটা ততোক্ষণে জানা হয়ে গেছে। তবুও সাকিবের সেঞ্চুরির জন্য অপেক্ষা চলতে থাকে। ৯৫ বল খেলে সাকিব সেঞ্চুরির দেখা পান। এ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম সেঞ্চুরি। ১১৯ বল থেকে ১২১ রান করে দলীয় ২১৯ রানের মাথায় সাকিব আউট হয়ে গেলে বাংলাদেশের পরাজয়ও একরকম নিশ্চিত হয়ে যায়।
এর পরের ব্যাটসম্যানরা শুধু পরাজয়ের ব্যবধান কমানোর চেষ্টাই যা একটু করেছেন। মাহমুদুল্লাহ ২৮(৪১), মোসাদ্দেক ২৬(১৬) কিংবা মিরাজের ১২(৮) ছোট্ট ছোট্ট ইনিংসগুলোর পরেও বাংলাদেশ ২৮০ রানেই আটকে যায়। ৪৮.৫ ওভারের মাথাতেই অলআউট বাংলাদেশ। ইংল্যান্ড ১০৬ রানের বড় জয় পায়।
ইংল্যান্ডের হয়ে জোফরা আর্চার ও বেন স্টোকস তিনটি করে উইকেট লাভ করেন। এছাড়া মার্ক উড দুটি এবং লিয়াম প্লাংকেট ও আদিল রশিদ একটি করে উইকেট লাভ করেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড: ৩৮৬/৬, ৫০ ওভার (জেসন রয়-১৫৩, জস বাটলার- ৬৪, বেয়ারস্টো- ৫১; মিরাজ- ৬৭/২, সাইফউদ্দীন-৭৮/২)
বাংলাদেশ: ২৮০/১০, ৪৯.৫ ওভার (সাকিব-১২১, মুশফিক-৪৪; আর্চার ২৯/৩, স্টোকস ২৩/৩)
ফল: ইংল্যান্ড ১০৬ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্যা ম্যাচ: জেসন রয়

