উৎসবমুখর ও নজিরবিহীন নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদের ওপর গণভোটের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ২৯৯টি সংসদীয় আসনে বিরতিহীনভাবে ভোট দেন ভোটাররা। বর্তমানে কেন্দ্রগুলোতে চলছে ভোট গণনা।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী নতুন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আজকের এই নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, সারা দেশে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া ভোটগ্রহণ ছিল মূলত শান্তিপূর্ণ। প্রায় সাড়ে ১২ কোটিরও বেশি ভোটার আজ কেবল তাদের জনপ্রতিনিধিই নির্বাচন করেননি, বরং দেশের ভবিষ্যৎ শাসনতন্ত্রের সংস্কার বা ‘জুলাই সনদ’-এর পক্ষে-বিপক্ষে নিজেদের মতামত দিয়েছেন।
সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। ঢাকা-১০ আসনের একটি কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা প্রথমবার ভোটার রিফাত হোসেন বলেন, “এটি আমার জীবনের প্রথম ভোট। নিজের প্রতিনিধি নির্বাচনের পাশাপাশি দেশের বড় পরিবর্তনের (গণভোট) অংশ হতে পেরে আমি আনন্দিত।”
বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অনেক কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়ের পরও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা ভোটারদের ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক হিসেবে ভোটার উপস্থিতি আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছে কমিশন।
এক নজরে নির্বাচন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে বেশ কিছু নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে:
মোট ভোটার: ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জন।
সংসদীয় আসন: ২৯৯টি (শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুতে ভোট স্থগিত)।
ভোটকেন্দ্র ও কক্ষ: ৪২,৭৭৯টি কেন্দ্রে মোট ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২টি বুথ।
নিরাপত্তা বাহিনী: পুলিশ, র্যাব, বিজিবি এবং সেনাবাহিনীসহ প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার সদস্য।
প্রযুক্তি: প্রথমবারের মতো নিরাপত্তায় ড্রোন ও বডি-ওর্ন ক্যামেরা ব্যবহার।
রাজনৈতিক দল: ৫০টি দল নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে।
সাধারণ নির্বাচনের পাশাপাশি আজকের অন্যতম আকর্ষণ ছিল সাংবিধানিক সংস্কারের ওপর গণভোট। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার প্রস্তাবনার ওপর সাধারণ মানুষের ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই গণভোটের ফলাফল নির্ধারণ করবে আগামী দিনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামো কেমন হবে।
নির্বাচনে বড় দলগুলোর মধ্যে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজধানীর গুলশান মডেল স্কুল কেন্দ্রে এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও সকালে ভোট দিয়ে একে “নতুন বাংলাদেশের জন্মদিন” হিসেবে অভিহিত করেন। অন্যদিকে, নির্বাচনে অংশ না নেওয়া আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে ভিন্নমত পোষণ করা হয়েছে।

