শিশুদের ঘুমের স্বল্পতা বাড়ায় স্থূলতার ঝুঁকি



শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে পর্যাপ্ত ঘুমের বিকল্প নেই। যারা নিয়মিত ছয় ঘন্টার কম বা নয় ঘন্টার বেশি ঘুমায় তাদের বেশিরভাগ সময়ই স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হয়। আবার শৈশবে, কৈশোরে, তারুণ্যে, যৌবনে আর বার্ধক্যে ঘুমের চাহিদাও আলাদা আলাদা। আমরা বড়রা নিজেদের ঘুমের ক্ষেত্রে সচেতন থাকলেও ছোটদের ক্ষেত্রে অনেকাংশেই উদাসীন।
সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশুরা কম ঘুমায় বা অনিদ্রায় ভোগে সেসব শিশুদের মধ্যে পরবর্তী বয়সে স্থূলতার হার অনেকাংশে বেশি দেখা যায়।
গবেষকগণ এ গবেষণায় ১২০ টি ৮ বছর বয়সী শিশুর ওজন এবং ঘুমের তথ্য বিশ্লেষণ করে এ ফলাফল দেন।
এ বিষয়ে গবেষণার অন্যতম গবেষক ভার্জিনিয়া কমনওয়েলথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যাসসি ক্যান্সার সেন্টারের ক্যান্সার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য সহযোগী পরিচালক বার্নার্ড ফুমেমেলার বলেন, ঘুমের স্বল্পতা প্রায়ই প্রাপ্তবয়স্কদের স্থূলতার দিকে পরিচালিত করে। এটি ভবিষ্যতে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে গত চার দশকে দশগুণ বেড়েছে শিশু ও কিশোরদের শারীরিক স্থূলতা বা ওবেসিটির হার। অর্থাৎ পৃথিবীর বারো কোটি চল্লিশ লাখ ছেলে-মেয়ে এখন অতিরিক্ত মোটা। গবেষকরা দেখছেন, শীঘ্রই ‘অপুষ্টি’ শব্দটির স্থান নিয়ে নেবে ‘ওবিস’ শব্দটি।
২০০০ সাল থেকেই বিশ্বজুড়ে অপুষ্ট অর্থাৎ স্বল্প ওজনের ছেলে-মেয়ের সংখ্যা কমছে। ২০১৬ সালে অপুষ্ট মানুষের সংখ্যা ছিল ১৯ কোটি ২০ লাখ। সংখ্যাটা অবশ্যই স্থূল শিশু-কিশোরদের তুলনায় অনেক বেশী। কিন্তু সেদিন হয়তো আর দূরে নয়, যেদিন, স্থূলদের সংখ্যাই বেড়ে যাবে। পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান দেশগুলো কয়েক দশকের মধ্যেই ওবেসিটিকে অপুষ্টির জায়গা নিয়ে নিতে দেখেছে।
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সংস্থা আইসিডিডিআর ২০১৪ সালে ওবেসিটি বিষয়ক একটি জরিপ করেছিল বলে জানা যাচ্ছে। দশ হাজার স্কুলগামী শিশুকিশোরদের উপর চালানো এই জরিপের ফলাফল: দেশটির শহরাঞ্চলে ওবেসিটির হার ৫.৬%। আবার যদি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত ওজনের কথা বলা হয়, তাহলে এই হার ১০% এর বেশী। যদিও দেশটিতে এখনো অপুষ্টি একটা গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এখানে অপুষ্টির হার ১৭.৬%।