ইসরায়েলের শীর্ষ পর্যায়ের রাব্বি বা ধর্মযাজকদের একজন জানিয়েছেন খুব শীঘ্রই আত্নপ্রকাশ করতে যাচ্ছেন প্রতিশ্রুত মসীহর (দাজ্জাল)। সরায়েলি রেডিওতে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এমনটিই জানয়েছেন তিনি।
আএ সে কারণেই ইসরায়েলের শীর্ষ পর্যায়ের ধর্মযাজকরা এ মুহুর্তে দেশ ছেড়ে অন্যকোথাও যেতে চাচ্ছেন না, কারণ তাতে তারা তাদের প্রতিশ্রুত মসীহর (দাজ্জাল) আগমনকে স্বাগত জানাতে পারবেন না।
রাব্বি ইয়াকুব জিশলজ ধর্মভিত্তিক রেডিও ২০০০ কে দেয়া তিন ঘন্টার ওই সাক্ষাতকারে বলেন, ‘আমাদের শীর্ষ রাব্বি চেইম ক্যানিভস্কি আমাকে বলেছেন ইতিমধ্যে মসীহর সঙ্গে তার সরাসরি সাক্ষাতও হয়েছে। এরপরই আমরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি।’ ইসরায়েলের আল্ট্রা-অর্থোডক্স ইহুদি কমিউনিটিতে রাব্বি চেইম ক্যানিভস্কিকে শীর্ষ দুই-তিনজনের একজন মনেকরা হয়।
ইহুদি জাতির কাছে এ মসীহ হচ্ছেন দাজ্জাল। সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (স.) এর হাদীস অনুযায়ী কিয়ামতের আগে পৃথিবীতে দু’জন মসীহ আসবেন। একজন ঈসা ইবনে মরিয়ম (আ) বা ঈসা মসীহ, যিনি হবেন সত্যের ধারক। তিনি পৃথিবীতে এসেছিলেন এবং কিয়ামতের আগে আবার আসবেন। আর অন্যজন মসীহ দাজ্জাল, যে হবে মিথ্যুক এবং সন্ত্রাস সৃষ্টিকারী।
মুহাম্মদ (স.) একইভাবে বলে গেছেন মিথ্যুক দাজ্জাল হবে ইহুদিদের নেতা এবং তাদের নিয়েই সে সারাবিশ্বে সন্ত্রাস সৃষ্টি করবে। যাকে হত্যা করে বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করবেন ঈসা (আ.)
ইয়াকুব জিশলজ বলেন, ‘প্রতি মুহুর্তে আমাদের জন্ম-মৃত্যু যেভাবে হচ্ছে মসীহ এখন তার চেয়েও বেশি কাছে। আপনি কি গগ এবং মাগগের (ইয়াজুজ-মাজুজ) কথা শুনতে পাননি? সেটাও চলে আসবে। ঠিক এ মুহুর্তে পরিস্থিতি বিষ্ফোরণ্মুখ, আপনি যতোটুকু চিন্তা করতে পারছেন তার চেয়েও বেশি। প্রত্যেকেরই এখন জানা উচিত সে কি এ জন্য প্রস্তুত থাকবে? না বিষয়টিকে এমনিতেই ছেড়ে দেবে।’
তিনি বলেন, ‘রাব্বি চেইম ক্যানিভস্কিসহ আধ্যাত্নিক কারণে গোপন থাকা রাব্বিরা এখন আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন মসীহর আসন্ন আগমনের বিষয়টি জনগণের কাছে প্রচার করার জন্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের রাব্বিরা মসীহ আত্নপ্রকাশের অনেক নিদর্শনও ইতিমধ্যে দেখতে পেয়েছেন, যা তারা লিখে রেখেছেন। ফলে মসীহ আত্নপ্রকাশের প্রমাণগুলো পেয়ে তারা বিষয়টি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।’
একটি সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে ইয়াকুব জিশলজ বলেন, ‘শীঘ্রই পরিত্রান প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে এবং সেটি খুব দ্রুতগতিতে চলবে। এ মুহুর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচেছ জনগণকে শান্ত এবং দৃঢ় থাকতে হবে, যাতে সঠিক সময়ে সঠিক কাজটি করা যায়। প্রত্যেক প্রজন্মেই একজন সম্ভাব্য মসীহ থাকেন ওই প্রজন্মের সঠিক জ্ঞানসম্পন্ন লোকেরাই তাকে সঠিকভাবে চিনতে পারে। আমাদের প্রজন্মের সেই মসীহ আসছেন এটিই সত্য।’
ইহুদিরা মনে করে, ঈসা (আ.) আর আসার সুযোগ নেই। তাদের হিব্রু বাইবেলে আসা প্রতিশ্রুত মসীহর আগমণ এখনো ঘটেনি। সে আসবে এবং বিশ্বের সব ইহুদিদের একস্থানে এনে সারা বিশ্বের নেতৃত্ব দেবে। ফলে ইহুদিরা তাদের সেই মসীহর আগমণের জন্য পৃথিবীকে প্রস্তুত করছে।
সূত্র: ইসরায়েল টুডে

