শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রা : নির্বাচিত হবেন স্পিকার 


শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ সংসদের যাত্রা : নির্বাচিত হবেন স্পিকার 

এক নতুন রাজনৈতিক অভিযাত্রার সাক্ষী হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। আগামীকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় বসছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। সংসদীয় গণতন্ত্রের এই নতুন অধ্যায়ে ওই দিনই নির্বাচিত হবেন নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। নবনির্বাচিতদের শপথ পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অধিবেশন কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ কাঠামোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


সংসদ ভবনে সাজসাজ রব

বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে সংসদ ভবন থেকে বের হয়ে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি অধিবেশনের প্রস্তুতি ও এজেন্ডা সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংসদীয় কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী অধিবেশনের শুরুতেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই সংসদের প্রথম অধিবেশনকে ঘিরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সংসদীয় সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বরণ করে নিতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে এটি স্পষ্ট যে, প্রথম দিনটি কেবল পদের রদবদল নয়, বরং রাষ্ট্রীয় সংহতির এক শক্তিশালী বার্তা দেবে।

আসছে ‘ঐতিহাসিক’ কিছু সিদ্ধান্ত

সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, ত্রয়োদশ সংসদের এই প্রথম অধিবেশনে বেশ কিছু ‘ঐতিহাসিক’ সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে। তবে সেই সিদ্ধান্তগুলো ঠিক কী হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি খোলসা করে কিছু বলেননি।

রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, সংবিধানের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন বা রাষ্ট্রীয় সংস্কার সংক্রান্ত কোনো প্রস্তাব এই অধিবেশনেই উত্থাপিত হতে পারে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক সংসদীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলাই নতুন সরকারের মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই ‘ঐতিহাসিক’ শব্দের ব্যবহার জনমনে কৌতূহল ও প্রত্যাশা উভয়ই বাড়িয়ে দিয়েছে।


অধিবেশনের মূল আকর্ষণ ও তথ্যাবলী:

  • সময়: বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, বেলা ১১টা।

  • স্থান: জাতীয় সংসদ ভবন, শেরেবাংলা নগর।

  • মুখ্য এজেন্ডা: স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং শপথ গ্রহণ।

  • শপথ প্রদানকারী: রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন।

  • বিশেষত্ব: জনগুরুত্বপূর্ণ ও নীতি-নির্ধারণী কিছু ঐতিহাসিক প্রস্তাব পাশের সম্ভাবনা।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন যে, সংসদের বিধি অনুযায়ী সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। বিরোধী দল ও সরকারি দলের ভারসাম্য এই সংসদে কেমন হবে, সেটিও দেখার বিষয়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের এই মিলনমেলা যদি প্রকৃতপক্ষেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু হতে পারে, তবেই ‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের’ সার্থকতা খুঁজে পাওয়া যাবে।