শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানি জাহাজ মার্কিন হামলায় ৮০ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজ শতাধিক


শ্রীলঙ্কা উপকূলে ইরানি জাহাজ মার্কিন হামলায় ৮০ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজ শতাধিক

ভারত মহাসাগরের উত্তাল ঢেউয়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজ। শ্রীলঙ্কার উপকূলবর্তী জলসীমায় বুধবার সংঘটিত এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অন্তত ৮০ জনের সলিলসমাধি ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের বরাতে জানা গেছে, জাহাজটিতে ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি আরোহী থাকার কারণে উদ্ধারকাজে চরম বেগ পেতে হচ্ছে।


মাঝসমুদ্রে মৃত্যুর মিছিল

বুধবারের পড়ন্ত বিকেলে যখন শ্রীলঙ্কার উপকূলে ঢেউয়ের গর্জন বাড়ছিল, ঠিক তখনই খবর আসে ইরানের পতাকাবাহী একটি জাহাজ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে গেছে। শ্রীলঙ্কার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের কথা প্রথম প্রকাশ্যে আনেন। তাঁর দেওয়া তথ্যমতে, উদ্ধারকারী দল এখন পর্যন্ত ৮০টি মৃতদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, জাহাজটির দাপ্তরিক নথিপত্র অনুযায়ী সেখানে অন্তত ১৮০ জন আরোহী ছিলেন। যদি এই তথ্য সঠিক হয়, তবে এখনো প্রায় ১০০ জন আরোহীর ভাগ্যে কী জুটেছে, তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে নৌবাহিনীর একাধিক জাহাজ ও হেলিকপ্টার অভিযান চালালেও সমুদ্রের প্রতিকূল আবহাওয়া উদ্ধারকাজকে ব্যাহত করছে।

রহস্য ও অনুসন্ধানে গোয়েন্দা নজর

১৫ বছরের সাংবাদিকতা জীবনে সমুদ্রপথে এমন বহু নৌ-দুর্ঘটনা কভার করার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, এই ধরনের ট্র্যাজেডির পেছনে সাধারণত দুটি কারণ থাকে—আবহাওয়া অথবা কারিগরি ত্রুটি। তবে ইরানের এই জাহাজটির ক্ষেত্রে কোনো যান্ত্রিক গোলযোগ ছিল কি না, তা এখনো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভারত মহাসাগরের এই রুটটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বছরের এই সময়ে সমুদ্র বেশ উত্তাল থাকে।

নৌবাহিনীর প্রাথমিক ধারণা, জাহাজের আরোহীদের একটি বড় অংশই হয়তো কেবিনের ভেতরে আটকা পড়েছিলেন, যার ফলে জাহাজটি দ্রুত ডুবে যাওয়ার সময় তারা বের হওয়ার সুযোগ পাননি। উদ্ধারকৃত মৃতদেহগুলো কলম্বোর নিকটবর্তী হাসপাতালগুলোতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে ইরানি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।

দুর্ঘটনার প্রধান তথ্যসমূহ:

  • ঘটনার স্থান: শ্রীলঙ্কার উপকূলীয় জলসীমা, ভারত মহাসাগর।

  • জাহাজের পরিচয়: ইরানি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক/যাত্রীবাহী জাহাজ।

  • নিহত: এখন পর্যন্ত ৮০ জনের নিশ্চিত মৃত্যু।

  • নিখোঁজ: প্রায় ১০০ জন আরোহীর সন্ধান মেলেনি।

  • মোট আরোহী: নথিপত্র অনুযায়ী ১৮০ জন।

  • উদ্ধারকারী সংস্থা: শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী ও স্থানীয় কোস্টগার্ড।


কূটনৈতিক তৎপরতা ও মানবিক বিপর্যয়

এই ঘটনার পর কলম্বোয় অবস্থিত ইরানি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে লঙ্কান সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। নিহিত ও নিখোঁজদের পরিচয় শনাক্ত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরোহীদের মধ্যে ঠিক কতজন ক্রু সদস্য এবং কতজন সাধারণ যাত্রী ছিলেন, সে বিষয়ে এখনো অস্পষ্টতা রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, সাগরে বাতাসের গতিবেগ ও ঢেউয়ের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় রাতে উদ্ধার অভিযান আংশিক স্থগিত রাখা হতে পারে। তবে ড্রোন এবং শক্তিশালী সার্চলাইট ব্যবহার করে তল্লাশি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে নৌবাহিনী।