করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। এমন পরিস্থিতিকে মহামারী হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া এই প্রাণঘাতী ভাইরাসে ১৫৭টি দেশে ৭ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ১,৯,৬১০ জন।
চীনের প্রতিবেশী দেশ হওয়া সত্ত্বেও তাইওয়ানে ভয়াবহ কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারেনি করোনা। সেখানে কোভিড-১৯ এ আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ এর নিচে। উহানের খুব কাছে হওয়ার সেখানে ভাইরাস মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি ছিল সবচেয়ে বেশি।
কি এমন করেছে তাইওয়ান? বিশ্ব যেখানে কোভিড-১৯ এর ভয়াবহতায় কাঁপছে, তাইওয়ান কেন সেখানে বেঁচে ফিরেছে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাইওয়ান ভাইরাসকে আটকে দিতে সক্ষম হয়েছে।
এ বিষয়ে দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের এক কর্মী বলেছেন, সার্স মহামারীর পর থেকে ‘আবার পৃথিবীর পেছনে চলে যাবো’ এই ভয়ে আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছি।
‘পাবলিক হেল্থ পলিসি’ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্টানফোর্ড ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞ ডা. জেসন ওয়াং বলেন, তাইওয়ান সম্ভাব্য সংকটের ভয়াবহতা আগেই বুঝতে পেরেছিল এবং ভাইরাসের চেয়ে এগিয়ে থাকতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, ২০০২ ও ২০০৩ সালে সার্স ভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পর তাইওয়ান ন্যাশনাল হেল্থ কমান্ড সেন্টার (এনএইচসিসি) গঠন করে পরবর্তী সংকট মোকাবেলায় প্রস্তুত হয়েই ছিল।
শনিবার তাইওয়ানের একজন নেটিজেন ফেসবুকের এক পোস্টে জানান, রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য তাইওয়ানের কেন্দ্রগুলোতে যারা কর্মরত আছেন তারা দ্বীপ দেশটিতে সার্স সংক্রমণের পর থেকে এই জাতীয় বিপর্যয়ের জন্য মহড়া দিয়েছেন।
উহানে করোনা প্রাদুর্ভাবের পরপরই তাইওয়ান সরকার চীনের মূলভূখণ্ড ছাড়াও হংকং, ও ম্যাকাওর ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এছাড়া ওই সময় সরকার সার্জিক্যাল মাস্ক রপ্তানি নিষিদ্ধ করে, যেন তাদের মজুদে সংকট দেখা না দেয়।
এছাড়া তাইওয়ান সরকার ন্যাশনাল হেল্থ ইনসুরেন্স এবং ইমিগ্রেশন ও কাস্টম বিভাগ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে সেগুলো সমন্বয় করে৷ এর মাধ্যমে তারা জনগণের ভ্রমণের তথ্য নিয়ে শুরুতেই সম্ভাব্য রোগীদের শনাক্ত করে ফেলে।
তাইওয়ানে যারা ভ্রমণ করেছেন তাদের জন্যও একটি প্রোগ্রাম চালু করা হয়। সেখানে একটি ‘কিউআর কোড’ স্ক্যান করে ভ্রমণকারীরা তাদের ভ্রমণের ও অসুস্থতার লক্ষণ সম্পর্কে তথ্য দিতে পারে। তারপর ভ্রমণকারীদের কাছে তাদের স্বাস্থ্যের বর্তমান অবস্থা নিয়ে একটি ম্যাসেজ যায়। এভাবে কাস্টম কর্মকর্তারা নিম্ন ঝুঁকির ভ্রমণকারীদের ছেড়ে দিয়ে উচ্চ ঝুঁকিতে থাকাদের পরীক্ষায় অধিক গুরুত্ব দিতে পেরেছেন।
ওয়াং বলেন, নতুন নতুন প্রযুক্তি যথাযথভাবে ব্যবহার করে তাইওয়ান সরকার অনেক কিছু করতে সক্ষম হয়েছে৷ এর মাধ্যমে তারা লোকজনের জরুরি প্রয়োজন বুঝে সে অনুযায়ী সেবা দিতে সক্ষম হয়েছে।
জনগণ স্বেচ্ছায় সরকারের নির্দেশ অনুসরণ করাও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করেন ওয়াং৷
উল্লেখ্য, চীনের হুবেই প্রদেশের উহানে গত বছর ডিসেম্বরের শেষ দিকে করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব ঘটে। এরপর বিশ্বজুড়ে এক লাখ ৬৯ হাজারের বেশি মানুষ সংক্রমিত হয়েছেন। এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের ১৫৭টি দেশে। আর মৃত্যু ৭ হাজারেরও বেশি।
সূত্র : তাইওয়ান নিউজ, ডয়েচে ভেলে

