এ বছর এসএসসি পাস করা সব শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য বরাবরের মতোই মানসম্পন্ন কলেজগুলোয় চলবে প্রতিযোগিতা। আবার অনেক কলেজে আসন খালি রয়ে যাবে। জানা গেছে, পাস করা সকল শিক্ষার্থী ভর্তির পরও তিন লাখের বেশি আসন খালি থাকবে।
একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনাকারী ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সারাদেশে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি নেওয়া কলেজগুলোয় প্রায় ২০ লাখ আসন রয়েছে। অন্যদিকে, এ বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় পাস করেছে ১৬ লাখ ৯০ হাজার ৫২৩ শিক্ষার্থী।
এ বছর যারা মাধ্যমিকে পাস করেছে, তাদের শতভাগ একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হলেও তিন লাখের বেশি আসন খালি থাকবে। কিন্তু নানা বাস্তবতায় কখনো মাধ্যমিকে পাস করা শতভাগ শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয় না। সুতরাং আসন সংকটে কেউ ভর্তি হতে পারবে না- এমন আশঙ্কা ঠিক নয়।
কিছু কলেজ রয়েছে এগুলো সবসময় শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের পছন্দের শীর্ষে থাকে। এসব কলেজে ভর্তির তীব্র প্রতিযোগিতা হয়। আবার অনেক কলেজে কোনো প্রতিযোগিতাই হয় না। এগুলোয় আবেদনকারীরা ভর্তির পরও আসন খালি থাকে।
এর প্রধান কারণ, শহর-গ্রামের শিক্ষার মান ও সুযোগ-সুবিধার বৈষম্য। শিক্ষাবিদরা বলছেন, সবার জন্য নিজের কাছাকাছি এলাকায় মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে এ বৈষম্য দূর করতে হবে। এ জন্য মফস্বলের কলেজগুলোর মানোন্নয়নের পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এতে মাধ্যমিকের পর শিক্ষার্থীদের শহরমুখিতাও হ্রাস পাবে।
শিক্ষার্থীদের শহরমুখী হওয়া প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, শহরের স্কুলগুলোতে সুযোগ-সুবিধা বেশি। এখানে শিক্ষার্থীরা ভালো ফল করে। বিপরীত চিত্র গ্রামের স্কুলগুলোতে। গ্রামের একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে শহরের ভালো স্কুলের শিক্ষার্থীর মেধার কোনো পার্থক্য নেই। পার্থক্য কেবল সুযোগ-সুবিধার। শহর-গ্রামের লেখাপড়ার বৈষম্য কমিয়ে আনতে হলে গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক মানোন্নয়ন করতে হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ অনুবিভাগ জানিয়েছে, একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। আপাতত করোনা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি একটু স্বাভাবিক হলে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে। ১৫ জুন পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এর মধ্যেই জানিয়ে দেওয়া হবে কবে থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে।

