সর্বোচ্চ অবস্থানে জ্বালানি তেলের দাম



ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে জ্বালানি তেলের বাজার। গত বুধবার পণ্যটির দাম সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছে যায়। গতকালও পণ্যটির দাম বেড়েছে।
গত বুধবার মে মাসে সরবরাহ চুক্তিতে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ। এদিন পণ্যটির দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৯৫ ডলার বেড়ে ৬৮ দশমিক ৪৭ ডলারে লেনদেন হয়, যা ২০১৪ সালের ১ ডিসেম্বরের পর থেকে সর্বোচ্চ। জুনে সরবরাহ চুক্তিতে ব্রেন্টের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ। দিনশেষে পণ্যটির দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৯০ ডলার বেড়ে ৭৩ দশমিক ৪৮ ডলারে লেনদেন হয়, যা ২০১৪ সালের ২৬ নভেম্বরের পর থেকে সর্বোচ্চ। গতকাল ব্রেন্ট ক্রুড লেনদেন হয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ৩৫ ডলারে। এদিন ব্যারেলপ্রতি ডব্লিউটিআই ৬৯ দশমিক ১৮ ডলারে লেনদেন হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ইআইএ) জানিয়েছে, ১৩ এপ্রিল শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশটিতে জ্বালানি তেলের বাণিজ্যিক মজুদ ১১ লাখ ব্যারেল কমে দাঁড়িয়েছে ৪২ কোটি ৭৫ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেলে, যা পাঁচ বছরের গড় মজুদ ৪২ কোটি ব্যারেলের কাছাকাছি।
ইআইএ জানিয়েছে, গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক জ্বালানি তেল উৎপাদন ১৫ হাজার ব্যারেল বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৫ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে। এ সময়ে গ্যাসোলিন মজুদ ৩০ লাখ ব্যারেল ও ডিস্টিলেট মজুদ ৩১ লাখ ব্যারেল কমেছে। এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটসের জরিপে উভয় পণ্যের মজুদ যথাক্রমে ১৯ লাখ ও ১৬ লাখ ব্যারেল কমতে পারে বলে প্রাক্কলন করা হয়েছিল।
ক্লিপারডাটার কমোডিটি রিসার্চ বিভাগের পরিচালক ম্যাট স্মিথ বলেন, আমদানি কমে আসায় মজুদ কমেছে। তবে পরিশোধনাগারে উৎপাদন কমেনি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরে এ পর্যন্ত মজুদ ৩০ লাখ ব্যারেল বেড়েছে। অথচ এক বছর আগে একই সময়ে মজুদ প্রায় পাঁচ কোটি ব্যারেল বেড়েছিল। চলতি বছর নিম্ন আমদানি, উচ্চ রফতানি ও পরিশোধনাগার সক্রিয় থাকায় উৎপাদন এক বছরে এক লাখ ব্যারেল বাড়ার প্রভাব কেটে গেছে।
গত বুধবার এক প্রতিবেদনে রয়টার্স জানায়, শীর্ষ রফতানিকারক সৌদি আরব জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮০ ডলার এমনকি ১০০ ডলারে পৌঁছালে খুশি হবে। দেশটির এ অভিপ্রায়কে উৎপাদন হ্রাস চুক্তি অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এক বিবৃতিতে আরবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মজুদ কমে আসা এবং দাম ৮০ থেকে ১০০ ডলারে উন্নীত হওয়ার বিষয়ে সৌদি আরবের অভিপ্রায়ের খবরে দাম বেড়েই চলেছে।
এক্সি ট্রেডারের চিফ মার্কেট স্ট্র্যাটেজিস্ট গ্রেগ ম্যাককেনা বলেন, আর্থিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সৌদি আরব ও এর মিত্রদের জন্য জ্বালানি তেলের দাম বেশি থাকা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে তারা কঠোর অবস্থানে আছে। তাই যখনই সুযোগ পাবে, তারা বাজারে আরো চাপ সৃষ্টির চেষ্টা করবে।
আজ জেদ্দায় মিত্রদেশগুলোর সঙ্গে ওপেকের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ২২ জুন ওপেকভুক্ত দেশগুলো জ্বালানি তেল উৎপাদন নীতি নিয়ে পৃথক বৈঠকে বসবে।