সালমান শাহ্‌র মৃত্যু প্রতিবেদনে বিচারকের স্বাক্ষর


সালমান শাহ্‌র মৃত্যু প্রতিবেদনে বিচারকের স্বাক্ষর

আলোচিত মামলা ঢাকাই চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) এর করা প্রতিবেদনে বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমান চূড়ান্ত  ‘দেখিলাম’ বলে স্বাক্ষর করেছেন।

এ সময় এই মামলার আগামী তারিখ ৩০ মার্চ ধার্য করেছেন আদালত। সেদিন চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণের বিষয়ে আদেশ দেয়া হবে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) জিআর শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক আনিছুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৩০ মার্চ পিবিআইয়ের দেয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনটি গ্রহণের বিষয় আদেশ দেবেন বিচারক।

এর আগে সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) আলোচিত এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন তুলে ধরেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান বনজ কুমার মজুমদার।

পিবিআইয়ের এই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলা চলচ্চিত্রের তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডের শিকার হননি, তিনি পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছিলেন।

পরে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে ৬০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি জমা দেন পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক সিরাজুল ইসলাম।

প্রতিবেদন তুলে ধরে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার বলেন, পিবিআইয়ের তদন্তকালে ঘটনার সময় উপস্থিত ও ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ৪৪ সাক্ষীর জবানবন্দি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬১ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়। ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করা হয়। পাশাপাশি ঘটনা সংশ্লিষ্ট আলামত জব্দ করা হয়। এসব বিষয় পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, চিত্রনায়ক সালমান শাহ পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যা করেছেন। হত্যার অভিযোগের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহের আত্মহত্যার পাঁচটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হলো- চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে সালমানের অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা, স্ত্রী সামিরার সাথে দাম্পত্য কলহ, মাত্রাধিক আবেগপ্রবণতার কারণে একাধিকবার আত্মঘাতী হওয়ার বা আত্মহত্যার চেষ্টা, মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা জটিল সম্পর্কে পড়ে অভিমানে রূপ নেয়া এবং সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনে অপূর্ণতা।