‘সীমান্ত হত্যা যেন আর শুনতে না হয়’: ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


‘সীমান্ত হত্যা যেন আর শুনতে না হয়’: ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের দীর্ঘদিনের কাঁটা ‘সীমান্ত হত্যা’ বন্ধে এবার সরাসরি এবং কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

রোববার (১ মার্চ) সচিবালয়ে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সীমান্তে রক্তপাত আর বরদাশত করা হবে না।

তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, “ভারতীয় হাইকমিশনারকে বিশেষভাবে বলা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে সীমান্ত হত্যার খবর আর শুনতে না হয়।”


কূটনৈকি সৌজন্যে সোজাসাপ্টা বার্তা

রোববার দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক দীর্ঘ বৈঠক করেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সাক্ষাৎ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী আলোচনার মূল নির্যাস তুলে ধরেন। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দুই দেশের অমীমাংসিত অনেক ইস্যু থাকলেও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এখন সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। বিশেষ করে নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রাণহানি দুই দেশের বন্ধুত্বের পথে বড় অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী জানান, তিনি হাইকমিশনারকে অনুরোধ বা পরামর্শ নয়, বরং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি সুনির্দিষ্ট অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি বলেন, “সীমান্ত হত্যা নিয়ে আমরা আমাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। বিজিবি (বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ) এবং বিএসএফ (বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স) যাতে সবসময় উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ রক্ষা করে এবং কোনো উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে শক্তি প্রয়োগ না করে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করে, সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”

বিজিবি-বিএসএফ সমন্বয় ও বিকল্প ব্যবস্থা

আলোচনায় কেবল সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবিই নয়, বরং মাঠ পর্যায়ে কীভাবে এটি কার্যকর করা যায় সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে নিয়মিত ‘ফ্ল্যাগ মিটিং’ এবং সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “সীমান্তে যতটুকু সম্ভব সংঘাত এড়িয়ে চলার জন্য বিএসএফ-কে সংযত হওয়ার বার্তা পৌঁছাতে বলা হয়েছে। আমরা চাই না একটি প্রাণও অকালে ঝরে পড়ুক।”

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তে প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর কোনো সমাধান আসেনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের এই সরাসরি বক্তব্য ভারতের ওপর একটি নৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ তৈরি করবে। বিশেষ করে যখন দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তার নানা ইস্যু টেবিলে রয়েছে, তখন সীমান্তকে শান্ত রাখা দিল্লির জন্যও একটি বড় পরীক্ষা।

বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে সীমান্ত হত্যা নিয়ে গভীর ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সেই জনআকাঙ্ক্ষারই প্রতিফলন ঘটিয়েছেন। তিনি সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এই বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। ভারতীয় পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন তিনি। তবে সাধারণ মানুষ ও মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, কেবল আশ্বাস নয়, সীমান্তে প্রাণহানি শূন্যে নামিয়ে আনাই হবে এই আলোচনার প্রকৃত সাফল্য।