করোনাভাইরাসের কারণে থমকে যাওয়া ক্রীড়াজগত আবার কবে আলোর মুখ দেখবে, এ প্রশ্ন এখন ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে। ইউরোপের বড় বড় লিগ চালু হবে কবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার মেডিক্যাল কমিটির চেয়ারম্যান মাইকেল ডি’হুগেহ মনে করেন, কোনোভাবেই সেপ্টেম্বরের আগে ফুটবল চালু করা উচিত হবে না।
তিনি বলেছেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে এখন কোনো ব্যাপারকে অগ্রাধিকার দিতে হলে মেডিক্যাল ব্যবস্থাকে দিতে হবে। তার পর ফুটবলের কথা ভাবা যেতে পারে। একদিকে টাকা-পয়সার ব্যাপার থাকলেও অন্যদিকে জীবন-মরণের প্রশ্ন চলে আসে। সত্য কথা বলতে আমরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে চলেছি। আমাদের মোটেও এটাকে হেলা করা ঠিক হবে না। আমাদের আরও বাস্তববাদী হতে হবে।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘পৃথিবী মোটেও প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের জন্য প্রস্তুত নয়। যদিও আশা করি পরিস্থিতি দ্রুতই ভালো হবে। আমি মনে মনে সেটাই চাই। আজ অবশ্য আপনাকে অনেক শান্ত থেকে অপেক্ষা করতে হবে। ফুটবল আবারও সম্ভব হবে যদি একে অপরের সঙ্গে চলাচল নিরাপদ হবে। ফুটবল যোগাযোগের মাধ্যমেই হয়। আর এটাই ঝুঁকিপূর্ণ এ সময়ে। আপনি কোনোভাবে স্পর্শ এড়াতে পারবেন না। সামাজিক দূরত্ব থাকাটা জরুরি বটে। এখনো আমরা সামাজিকভাবে দূরে থাকছি। পরীক্ষা করাটা জরুরি। আর একবার পরীক্ষা করলেই হচ্ছে না। আপনাকে বারবার পরীক্ষা করতে হবে। এ ভাইরাসে আবারও আক্রান্ত হওয়ার ভয় থাকছে। একজন খেলোয়াড় আক্রান্ত হলে পুরো দল ধরেই বিপদে পড়বে। আর একত্র হওয়ার তো পথ দেখছি না। এমন অবস্থায় কি খেলা সম্ভব? আমি তো কোনো সম্ভাবনা দেখি না। আমরা এখনো জানি না কোন দেশ কোন পর্যায়ে রয়েছে। একেক দেশের একেক পরিস্থিতি। আমাদের এখনো ভ্যাকসিনের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’
বেলারুশে ফুটবল চলছে। সুইডেনও শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে। নিউজিল্যান্ডে করোনা বিদায় নিয়েছে। ইতালিতে খেলোয়াড়দের অনুশীলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে ফরাসি ও ডাচ লিগ বাতিল হয়ে গেছে।
এদিকে জার্মানি ও ইংল্যান্ড ফুটবল শুরুর জন্য অপেক্ষা করছে। অবশ্য গ্যালারিশূন্য খেলা হবে বলে জানিয়েছে সবাই। আরও নানা নিয়মকানুনের ব্যাপারে আলাপ হচ্ছে। ইংল্যান্ডের আর্সেনাল ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড অনুশীলনের অপেক্ষায় রয়েছে।
ডি’হুগেহ মনে করেন, সময় এসেছে নানা নিয়ম পরিবর্তনের। ফুটবলের নিয়ম তো বটেই, খেলোয়াড়দের চলাচলেও পরিবর্তন আনতে হবে। রেফারিকে সেভাবে নির্দেশনা দিতে হবে। তবে আগে আমাদের জীবনে ফিরতে হবে।

