কুড়িগ্রাম চিলমারী সড়কের উলিপুর বাজারের মোহিনী মেডিকেলের অপোজিটেই অখিলের সেলুন। সকাল ৯টা থেকে রাত ১২/১টা পর্যন্ত মানুষের ভিড় লেগে থাকে সেলুনে। যা এখন প্রায় ১৪/১৫ দিন ধরেই বন্ধ। ওই সেলুনে রয়েছে ৬জন নাপিত বা কারিগর। সকলেই প্রায় কর্মহীন হয়ে পড়েছে। সরকারি নির্দেশনা থাকায় সেলুন খোলা রেখে কাজ করতে পারছেন না সেলুনের নাপিতরা। এদিকে সরকারি সাহায্য সহযোগিতাও মিলছে না সেভাবে। তাই বাধ্য হয়েই ৬জন নাপিতের কেউ কেউ খুব পরিচিত মানুষের ডাকে বাসা বাড়িতে গিয়ে চুল দাড়ি কামিয়ে দিয়ে সীমিত রোজগার করে পরিবার চালাচ্ছেন।
এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে অখিলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দোকান খুলতে পারি না আজ ১৪/১৫ দিন ধরেই। কেউ এখন পর্যন্ত আমাদের কিছু সহযোগিতাও করলো না। আগে সবাই ফোন দিয়ে সিরিয়াল দিতো। এখন কেউ বলে না, এরপরের সিরিয়ালটা আমার রাখিস। পরিচিত কেউ ডাকলে বাসায় গিয়ে কাজ করছি। জীবনের ভয় তো লাগে কিন্তু কি করবো পেট তো চালাতে হবে, সংসার চালাতে হবে।
উলিপুর স্বর্ণময়ী সরোবর(কাচারী পুকুর) এলাকায় রয়েছে মতিয়ারের সেলুন। মোবাইল ফোনে মতিয়ারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, ভাই আমার বাড়ি গ্রামে। কিন্তু পেটের দায়ে বাজারে আসি। সেলুন খোলা রাখিনা, কেউ ফোন দিলে সেলুনে গিয়ে ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে ভিতরে কাজ করছি। তাও খুব পরিচিত মানুষ ছাড়া কাজ করিনা। মিথ্যা বলবো না ভাই, সরকার থেকে কিছু চাল ডাল পাছিলাম। কিন্তু কয়দিন চলে প্রত্যেক বেলায় তো খাওয়া লাগে।
উলিপুর পৌরশহরে প্রায় ১৪/১৫টি সেলুন রয়েছে। সবগুলোই বন্ধ, সব নাপিতই প্রায় একই রকম অবস্থায় দিন পার করছেন। করোনা সতর্কতায় অনেক মানুষ নিজেরাই বাড়িতে বসে আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে নিজেদের চুল দাড়ি কামিয়ে ফেলছেন।
সমাজকর্মী অনিকেত মাসুম জানান, যারা খেটে খাওয়া মানুষ তারা রয়েছেন অসহায় অবস্থায়। আমার বাড়ির এলাকায় চারটা সেলুন রয়েছে, সব গুলোই বন্ধ। এদের সকলের অবস্থা খারাপ। সরকারের পাশাপাশি আমাদের সকলের উচিত সমাজের এই অসহায় মানুষগুলোর প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া।
বিশ্বব্যাপী মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে বন্ধ হয়ে যায় দেশের অর্থনীতির গতি। সরকার করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব ধরনের সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণ পরিবহন বন্ধ ঘোষণা করেন। ফলে খেটে খাওয়া কর্মজীবী মানুষরা কর্মহীন হয়ে পড়েন। এই দুর্যোগে সরকার কর্মহীন মানুষের জন্য নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও চরম বিপাকে রয়েছে খেটে খাওয়া এই মানুষেরা।
পেপারস লাইফ/কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি/চন্দন কুমার সরকার

