দেশের বাজারে টানা দুই দফা বাড়ার পর সোনার দাম কমল ভরিতে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৬৩৩ টাকা। বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে নতুন এই মূল্যহার কার্যকর হয়েছে।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্তে সব ধরনের সোনার দর সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা। বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এই মানের সোনার ভরিপ্রতি দাম ছিল ২ লাখ ২৪ হাজার ৭০৭ টাকা।
অন্যান্য মানের সোনার ক্ষেত্রেও ভরিতে সুনির্দিষ্ট হারে দাম কমানো হয়েছে। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৫৭৫ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা নির্ধারণ করেছে বাজুস। এ ছাড়া ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকায়।
সনাতন পদ্ধতির সোনার ক্ষেত্রেও মূল্যহ্রাসের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ হাজার ১০৮ টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা করা হয়েছে। দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত এই দর অনুযায়ী সোনার অলংকার কেনাবেচা চলবে।
সর্বশেষ এই মূল্যহ্রাসের আগে বুধ ও বৃহস্পতিবার, ২৮ ও ২৯ অক্টোবর টানা দুই দফায় দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানো হয়েছিল। ওই দুই দিনে ভালো মানের সোনার দাম ভরিতে মোট ৩ হাজার ৮৪৯ টাকা বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর এক দিনেই ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়ানো হয়েছিল, যা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর একই পরিমাণে কমিয়ে আনা হয়েছে।
সোনার পাশাপাশি দেশের বাজারে রুপার দামও কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি। নতুন দর অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গয়নার দাম ১৭৫ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৬৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একইভাবে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপার দাম ১৭৫ টাকা কমে ৩ হাজার ৪৯৯ টাকায় নেমে এসেছে।
স্থানীয় বুলিয়ন বাজারে তেজাবি সোনা ও রুপার মূল্যের ওঠানামার ওপর ভিত্তি করে বাজুস নিয়মিতভাবে দেশের বাজারে অলংকারের দাম পুনর্নির্ধারণ করে থাকে। বিশ্ববাজারে সোনার দামের প্রবণতা ও স্থানীয় সরবরাহের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়েই এই সমন্বয় করা হয়েছে বলে বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। নির্ধারিত মূল্যের সঙ্গে ক্রেতাদের সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ভ্যাট ও নির্ধারিত মজুরি পরিশোধ করতে হবে।

